বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া দুই যুবককে শনাক্ত করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন মিরসরাই উপজেলার সিরাজ ও সাদেক। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশের আশা, আজকের মধ্যেই অন্তত একজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন আমার দেশকে বলেন, অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া দুই যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। আশা করি একজনকে আজকের মধ্যেই গ্রেপ্তার করা যাবে।
মঙ্গলবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে ঘিরে সীতাকুণ্ডে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষের পর অস্ত্র হাতে কয়েকজন যুবকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একই সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ব্যারিকেড ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তদন্তে এখন মূল প্রশ্ন, মিরসরাইয়ের দুই যুবক কীভাবে সীতাকুণ্ডের রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে প্রবেশ করলেন, কার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল এবং তাদের হাতে থাকা অস্ত্র কোথা থেকে এলো। সংঘর্ষে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী বলেন, মিরসরাই থেকে আসা দুই যুবকের অস্ত্র হাতে থাকার ভিডিও ফুটেজ তার হাতে এসেছে। তাদের গ্রেপ্তারে তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান।
এই সময় আসলাম চৌধুরী তার বক্তব্যে আরও বলেন, চট্টগ্রামের ছোটখাটো এক মন্ত্রীর ইন্ধনে সীতাকুণ্ডে বিএনপির কর্মসূচি বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি ওই মন্ত্রীর নাম উল্লেখ করেননি। গাপটি মেরে থাকা কেন্দ্রীয় বিএনপির কেউ দলীয় কর্মসূচি বানচালের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অস্ত্রধারী দুই যুবক শনাক্ত হওয়ার পর এখন তাদের গ্রেপ্তার এবং জিজ্ঞাসাবাদে সংঘর্ষের পেছনের পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে কী তথ্য বেরিয়ে আসে, সেদিকেই নজর স্থানীয়দের। পাশাপাশি মহাসড়কে ব্যারিকেড ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।