প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত

এফএনএস (এস এম এ হালিম দুলাল; জামালপুর) : | প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে মোট ৫১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব  কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দিতে সরকারের উদ্যোগে কমিউনিটি ক্লিনিক করা হয়েছে। তাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠির দ্রুত চিকিৎসা সেবা দিতে চাহিদা অনুযায়ী বছরে ৩ থেকে ৪ বার ওষুধ সরবরাহ করা হয়ে থাকে এসব ক্লিনিকে।

স্থানীয় এলাকাবাসির অভিযোগ, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর(ঈঐঈচ) সপ্তাহে ইচ্ছেমতো সময়ে ক্লিনিকে আসেন। খোলেন এবং কখনো এক দুই ঘন্টা চালু রাখেন। আবার কতদিন তারা আসেনই না। ফলে সেবা নিতে আসা রোগিরা অনিদ্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করে শেষে ফিরে যেতে হয় রোগীদের। এলাকাবাসিরা স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থাপনার শিকার।

৩ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে মোহাম্মদপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সকাল ১০ঃ১৫ মিনিটে যেয়ে দেখি তালা বন্ধ আবার যাই একটা ১:৫৩ মিনিটে ক্লিনিকের পাশে বাজারে দেখতে পাওয়া যায় (ঈঐঈচ)সাফিকুল ইসলামকে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এর কারণ কি ? তিনি এর কোন সদোত্তর দিতে পারেন নি। সাফিকুল ইসলাম কোন প্রতি উত্তর না দিয়ে যাই ক্লিনিকে। তারপর ক্লিনিকের আবার ফিরে এসে  উত্তরে বললেন চা খাওয়ার জন্য গেছিলাম। জিজ্ঞেসা করা হয় অফিস কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত? বলেন নয়টা থেকে তিনটা আপনি সকালে কয়টায় অফিস আসছেন। উনি বলে জানিনা সময় দেখি নাই বলে জানান। বুধবার গোয়ালের চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন খুব একটা না তবে মোটামুটি আসে।

পলাবান্দা ইউনিয়নের তিনটি ক্লিনিক রয়েছে। দুইটি বন্ধ পাওয়া যায়। শুধু উত্তর সিরাজাবাদ কমিউনিটি ক্লিনিক খোলা পাওয়া যায়। সেখানে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর(ঈঐঈচ) জেসমিন বলেন প্রতিদিন তিনি অফিসে আসেন চিকিৎসা সেবা দেন। তবে ওষুধ অপ্রতুল্য বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে পলবান্ধা ইউপির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান কমল বলেন পলাবান্দা ইউনিয়নের তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিক বেশীর ভাগ সময় বন্ধ থাকে। ইচ্ছে হলে সপ্তাহে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর(ঈঐঈচ) দুইচার দিন আসেন। আবার অনেকেই আসেন না। রোগিরা এলে বলে ওষুধ নাই এভাবে চলছে ক্লিনিক। 

সরকার প্রতিটি ক্লিনিকে টাকা খরচ করলেও পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। তদারকির অভাবে সিএইচসিপি, এইচএ, এফডব্লিউএ দায়সারা ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ  পৌঁছে দিতে  সরকারের উদ্যোগে কমিউনিটি ক্লিনিক করা হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বছরে ৩ থেকে ৪ বার ওষুধ সরবরাহ করা হলেও রোগিরা আংখিত সেবা পাচ্ছেন না এসব ক্লিনিকে।কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রপাইটর (ঈঐঈচ)  নিয়মিত ভাবে অনুপস্থিতির কারণসহ চিকিৎসার জন্য প্রয়োনীয় ওষুধপত্র না থাকার কারণে এলাকাবাসি দিন দিন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।

মালমারার  কমিউনিটি ক্লিনিকে যাওয়ার সময় অটোচালক জুয়েল শেখ বলেন কোথায় যাবেন? মালমারা কমিউনিটি ক্লিনিকে তখন জুয়েল শেখ বলেন ওইখানে যেয়ে কি করবেন সেখানকার (ঈঐঈচ) মাহফুজা বেগম অফিসে আসেন না। মাসে দেখি একদিন কি দুই দিন।

কমিউনিটি ক্লিনিকের জমি দাতা নইমদ্দী চেয়ারম্যানের স্ত্রী সাযেদা বেগম বলেন ওই মহিলা বারোটায় আসলে একটা চলে যায় কেউ ওষুধ চাইলে ওষুধ দেয় না একই অভিযোগ ষাটউর্ধ্ব রাহেলা বেগম,সোনা মিয়া,অষ্টম শ্রেণীর সিয়াম তারাও একই অভিযোগ করেন। তারা সবাই বলেন ক্লিনিকে গেলে কোন  ওষুধ পাওয়া যায় না। 

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ক্লিনিকের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিদর্শকের নিয়মিত তদারকির কথা থাকলেও কমিউনিটি ক্লিনিকের ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত বলে মনে হচ্ছে। সিএইচসিপি,স্বাস্থ্য সহকারী কে দায়িত্বে রয়েছে তা তাৎক্ষনিক জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এই অনিয়ম বন্ধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এবিষয়ে ইসলামপুরের হাসপাতালের প প কর্মকর্তা আবু তাহের কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব বলে জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে