সাম্প্রতিক সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ভুলে সীতাকুণ্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ। তিনি বলেছেন, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা রাজনৈতিক সংগঠনে স্বাভাবিক। তবে সেই প্রতিযোগিতা যেন বিভেদ, সংঘাত কিংবা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ না হয়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সীতাকুণ্ডে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মীয় শোভাযাত্রা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সীতাকুণ্ড বিএনপির সাম্প্রতিক দুই পক্ষের সংঘর্ষের বিষয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নেতৃত্বে আসার আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে। এটি রাজনৈতিক সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা ব্যক্তিগত বিরোধ বা সংঘাতে রূপ নিলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দল। তাই সবাইকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোকে তিনি মূলত জুনিয়র পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার ফল হিসেবে উল্লেখ করেন। সালাউদ্দিন, মোরসালিন ও জহুরসহ বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দলের জন্য কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকলেও বিএনপির আদর্শ ও মূল নেতৃত্বের প্রশ্নে সবাই এক ও অভিন্ন।
শপথ গ্রহণ ও পদ-পদবি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসলাম চৌধুরী বলেন, কোনো পদ শূন্য হওয়া কিংবা নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রত্যাশা ও আলোচনা তৈরি হওয়া রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারই অংশ। এ নিয়ে সাময়িক বিভ্রান্তি থাকলেও খুব শিগগিরই এর অবসান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, সীতাকুণ্ড বিএনপিতে ভুল-বোঝাবুঝি ও মনোমালিন্যের অবসান ঘটাতে হবে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে সবাইকে এক ব্যানারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নেতাকর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠে থাকলে সীতাকুণ্ড বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি আরও সুদৃঢ় হবে।
গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষের পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় অবরোধের ঘটনাও ঘটে, এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
এরপর সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে দুই যুবককে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাত্র কয়েক দিনের মাথায় আসলাম চৌধুরীর ঐক্যের আহ্বানকে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাঁর বক্তব্যে মূলত একটি বিষয়ই স্পষ্ট, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যেন দলের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল না করে।