রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা। যোগদানের পর থেকে এসব কার্যক্রমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, সড়ক, পর্যটনকেন্দ্র ও জলপথকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাবুগঞ্জের মাধবপাশার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগরে দর্শনার্থীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ‘আই লাভ বাবুগঞ্জ’ ভিউ পয়েন্ট। ভিউ পয়েন্টটি দর্শনার্থীদের ছবি তোলা ও দুর্গাসাগরের সৌন্দর্য উপভোগের নতুন স্থান হিসেবে যুক্ত হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছে। এদিকে রহমতপুর স্টেশন থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ময়লা-আবর্জনা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ লাগানো হয়েছে।
ভবিষ্যতে এসব গাছ বড় হলে সড়কটির সৌন্দর্য আরও বাড়বে এবং জায়গাটিকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গোষ্ঠী গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপজেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও এর আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন করতেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ উদ্যোগে সহযোগিতা করছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স।
উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাটবাজারকেও পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনা হয়েছে। বাজারে স্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজে বিভিন্ন বাজারে গিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের তদারকি করছেন এবং প্রত্যেকটি কর্মসূচিতে নিজেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় অংশ নিচ্ছেন। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন-এর সদস্যরা আন্তরিকতার সাথে অংশগ্রহণ করছেন। বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনটির সদস্যদের সহযোগিতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
এদিকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের অংশ হিসেবে বাবুগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, উপজেলা পরিষদ চত্বর এবং সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন দপ্তরের উদ্যোগে ১০ হাজারের বেশি বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন। সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। অন্যদিকে উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ রাজারবের খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। কচুরিপানা ও আবর্জনার কারণে খালটির পানি প্রবাহ ও নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর খালটিতে বড় পরিসরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে তিন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দও কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
এসব উদ্যোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, আজ বাবুগঞ্জে আছি, আগামীতে থাকব না। যতদিন আছি, একটি আদর্শ উপজেলা হিসেবে বাবুগঞ্জ বিনির্মানে সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করে যেতে চাই। প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব ও কর্মের মাধ্যমে মানুষের আশীর্বাদে থাকতে চাই।
বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, ইউএনও আসমা উল হুসনা মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে উনার রুটিন কার্যক্রম এর পাশাপাশি বাবুগঞ্জের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য নিয়ে কাজ করছেন। তার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে উপজেলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জনকল্যাণমূলক এসব কাজে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও সহযোগিতা করছেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। উপজেলা প্রশাসনের এসব উদ্যোগে সরকারি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাবুগঞ্জে পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।