মানবাধিকার সংকট

দায়মুক্তির সংস্কৃতি ভাঙতে হবে

এফএনএস | প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
দায়মুক্তির সংস্কৃতি ভাঙতে হবে

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির আগস্ট মাসের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন আমাদের সমাজের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। মাত্র এক মাসে সারাদেশে গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৬২ জন। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাক-বিতণ্ডা কিংবা ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হত্যা করার প্রবণতা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। এটি শুধু আইনের শাসনের ব্যর্থতা নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তার গভীর সংকটের প্রতিফলন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগস্ট মাসে নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে উদ্ধার হয়েছে ৮৭টি লাশ। এর মধ্যে অনেকগুলোই বস্তাবন্দি, ঝুলন্ত, গলা কাটা বা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ধরনের ঘটনা সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে আরও শক্ত করছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রও উদ্বেগজনক। আগস্ট মাসে অন্তত ২৪৯ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৭৯ জন ধর্ষণের শিকার এবং ১৮ জন গণধর্ষণের শিকার। শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ২৮২ জন ভুক্তভোগী হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শ্রমিক নির্যাতন ও কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৯ জন, আহত হয়েছেন ৬৭ জন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে ৬৩ জন শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন। সীমান্ত পরিস্থিতিও মানবাধিকার সংকটকে আরও জটিল করেছে। ভারতীয় সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণহানি, মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় আটক ও পুশ-ইনের ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর ও হত্যার ঘটনা সামাজিক সমপ্রীতির জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা মনে করি, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে জরুরি হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। অপরাধীরা শাস্তি না পেলে সহিংসতা বাড়বেই। তাই সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। গুরুতর অপরাধ সালিশে নিষ্পত্তি বন্ধ করতে হবে, রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে এবং হেফাজত ও কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। অজ্ঞাতনামা লাশের প্রতিটি ঘটনায় পরিচয় শনাক্তকরণ, ময়নাতদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা অপরিহার্য। গণপিটুনি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে দায়মুক্তির সংস্কৃতি ভাঙতে হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র ও সামাজিক স্থিতিশীলতা কখনোই টিকবে না।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে