বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে কিন্তু নেই কোন সমাধান। পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে চলছে জটিলতা। ৩৮ বছর আগে স্থাপিত স্কুলে প্রায় ৪ বছর থেকে পথ না থাকাসহ স্কুল যাওয়ার সড়ক তৈরি না হওয়ায় বেড়েই চলছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ। চিলমারী উপজেলার পূর্ব চর পাত্রখাতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন দাঁড়িয়ে আছে, আছে ভরপুর শিক্ষার্থী কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর মতো রাস্তা নেই। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাদা, পানি অন্যের বাড়ির ভিতর দিয়ে ভাঙাচোরা পথ পেরিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে শতাধিক শিক্ষার্থীকে। অনেক সময় স্কুলের পরিবর্তে রাস্তার ধারে মানুষের উঠানে পাঠদান দিতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষকগণ। এতে নিয়মিত পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে, বাড়ছে ঝরে পড়ার আশঙ্কাও। জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার পাত্রখাতা এলাকায় ১৯৮৮ সালে স্থাপিত হয় পূর্ব চর পাত্রখাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় শুরুতে এটি বে-সরকারী থাকলে পরে সরকারী হয়। স্কুল স্থাপিত থেকে স্কুল যাওয়ার একটি সুন্দর রাস্তা থাকলেও করোনা কালিন স্কুল বন্ধ হয়ে পড়লে ধিরে ধিরে স্কুল যাতায়াতের পথটি কিছু অংশ তিস্তা খালে কিছু অংশ পাশ্ববর্তী স্থানীয়দের দখলে চলে গিয়ে পুরো রাস্তা বেদখল হয়ে ২০২২ সাল থেকে স্কুল যাওয়ার পথ একেবারে বন্ধ হয়ে পড়ে। দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর কেটে গেলেও স্কুল যাওয়ার রাস্তা পূর্ণনির্মান কিংবা তৈরি করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা সরেজমিনে পরিদর্শন করলেও হয়নি সমাধান, তৈরি হয়নি রাস্তা ফলে প্রায় ৪ বছর থেকে কোমলমতি শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী পানিতে ভিজে, কাদামাটি দিয়ে কখনো অন্যের বাড়ির ভিতর দিয়ে শিক্ষা অর্জন করতে স্কুলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থী সুমাইয়া, সাকিব, সুমা জানায়, কয়েক বছর থেকে স্কুল আসার কোন রাস্তা না থাকায় অন্যের বাড়ির ভিতর দিয়ে আসতে হয়, অনেক সময় তারা গালি দেয় আবার গেট বন্ধ করে রাখে তাই অনেক সময় তিস্তা খাল দিয়ে ভিজে আসতে হয় আর এই কারনে স্কুলের সামনে আসলে মনে ভিষণ কষ্ট হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তা নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অভিভাবকদের দাবি, একটি নিরাপদ ও টেকসই রাস্তা নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারবে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিয়াজবিন রানু বলেন, স্কুলে আসার কোন রাস্তা না থাকায় বিপাকে আমরা সবাই আর এই ভোগান্তি প্রায় ৪ বছর থেকে পোহাতে হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, দ্রুত সমস্যা সমাধান করে রাস্তা নির্মানের মাধ্যমে পরিবেশ ফিরে আনা হবে।