বাড়ি বাড়ি যাবেন স্বেচ্ছাসেবক-শিক্ষার্থীরা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগ্রহীত

ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় দেশজুড়ে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় গিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করবেন।

ডেঙ্গুর জন্য আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে মাঠপর্যায়ে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি।

কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলো কার্যক্রম সমন্বয় করবে। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকেরা এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় কার্যক্রমের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে।

প্রতি শনিবার তারা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে যেসব স্থানে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে, সেগুলো চিহ্নিত করা হবে। বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার বিষয়েও মানুষকে সচেতন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের এই কার্যক্রমের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের ওপরও জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।”

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে