একটি ভাসমান সেতু নির্মাণে অবশেষে পাঁচ বছরের ভোগান্তি লাঘব হতে যাচ্ছে মম্বিপাড়া, পৌরগোঁজাসহ চার গ্রামের মানুষের। বিশেষ করে পৌরগোঁজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীসহ তাঁদের পরিবার-পরিজনের কাছে সেতুটি স্বস্তি এনে দিয়েছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের ‘সুফি মোতাহার উদ্দিন বাড়ি সংলগ্ন’ বড়হরপাড়া খালের ওপর এলজিইডির আয়রন ব্রিজটি বিধ্বস্ত হওয়ায় চরম দুরবস্থায় পড়ে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। ব্রিজটি পূননির্মাণ কাজ ঝুলে আছে বছরের পর বছর। স্থানীয়রা বাঁশের সাকো দিয়ে যোগাযোগ কোনমতে সচল রেখেছিলেন। সাঁকো পার হতে গিয়ে বহুবার শিশুরা খালে পড়ে গেছে। এমনকি একবার সাবিনা নামের এক শিশু মৃত্যুর ধকলে পড়েছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাকের শিশুদের লেখাপড়া বন্ধ ছিল। সাঁকো পার হতে না পেরে অনেকে কলাগাছের ভেলায় খাল পার হতো। এক পর্যায়ে বাঁশের সাকোটিও জীর্ণদশায় পরিণত হয়। ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায়। অবশেষে ‘ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডু সামথিং’ ফাউন্ডেশন এগিয়ে আসে।
সংস্থার বরিশালের বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর জাহিদুল ইসলাম জানান, নতুন করে প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর কাঠের পাটাতনের ভাসমান সেতুটি নির্মাণে চারটি গ্রামের ভোগান্তি লাঘব হতে যাচ্ছে। সেতুটির মূল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন একটু সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। কয়েকদিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রামবাসীকে নিয়ে উদ্বোধন করা হবে। বিশেষ কওে শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীর ক্লাশে যাওয়া-আসার ঝুকি ও ভোগান্তি লাঘব হচ্ছে। জাহিদুল ইসলাম আরও জানান, ১৬৫ ফুট লম্বা এবং সাড়ে চার ফুট প্রস্থ এ সেতুতে ৪০টি ড্রাম ব্যবহার করা হয়েছে। ভাসমান এই সেতুটি নির্মাণে অন্তত ১৫দিন সময় লেগেছে।
স্থানীয় বাসীন্দা বাবুল গাজী জানান, এলজিইডির আয়রণ ব্রিজটি প্রায় পাঁচ বছর আগে ভেঙে গেছে। তারপর আর মেরামত কিংবা যোগাযোগের কোন ব্রিজ করা হয়নি। অবশেষে ভাসমান এই সেতুটি নির্মিত হওয়ায় তাঁদের কষ্ট লাঘব হচ্ছে। পৌরগোঁজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মেশকাত জানান, ভাসমান সেতুটি হওয়ায় শিশু শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে নিয়মিত স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারবে। উপস্থিতি বাড়বে। ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় মানুষ ও কোমলমতি শিশুদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমরা এই ভাসমান সেতু করার উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি চারটি গ্রামের মানুষের চলাচল ও শিক্ষার্থীদের চলাচল নির্বিঘ্নে হবে এমন একটি ভালো কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। সারাদেশে আমাদের নানান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’ কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘ এটি একটি ভালো ও মহতি উদ্যোগ। আপাতত স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এটি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এমন কাজে এগিয়ে আসা সমাজের জন্য ইতিবাচক দিক। তবে সরকারের পরিকল্পনা অনুসারে বরাদ্দ স্বাপেক্ষ ওই খালে একটা ব্রিজ করা হবে।