দাকোপে লবনাক্ত জমিতে কৃষি উৎপাদনে নতুন আশার আলো

এফএনএস (কে, এম, আজগর হোসেন ছাব্বির: দাকোপ, খুলনা) : | প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
দাকোপে লবনাক্ত জমিতে কৃষি উৎপাদনে নতুন আশার আলো

এক সময় লবন পানির চিংড়ী চাষের আদর্শ ভূমি খুলনার উপকুলিয় সেই দাকোপ উপজেলা এখন কৃষি উৎপাদনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। আমন ধানের পাশাপাশি গরমের ধান সব্জি এবং তরমুজ চাষে ব্যাপক সফলতা মিলছে। চলমান আমন মৌসুমে চাষাবাদের অন্তরায় হিসাবে জলাবদ্ধতা আর সেচ সংকটের কথা বলেছেন চাষিরা।

দাকোপ উপজেলায় চাষযোগ্য ২০৬০৩ হেক্টর জমির মধ্যে চলতি মৌসুমে ১৯২৩০ হেক্টর জমি আমন ধান চাষের আওতায় এসেছে। এ ছাড়া রবি মৌসুমে ৭৯৮০ হেক্টর, খরিপ আবাদ ৮৫৯ হেক্টর জমি চাষাবাদ হয়েছিল। চলতি আমন মৌসুমে মাঠ পর্যায়ে কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায় কিছু প্রতিবন্ধকতা ও সংকট অধীক ফসল উৎপাদনের অন্তরায়। উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন পৌরসভা মিলে মোট ৬৪ টি স্লুইচ গেট আছে পানি সরবরাহের জন্য। কিন্তু অধিকাংশ গেট গুলোর কপাট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সে গুলো তেমন কোন কাজে আসেনা। বাধ্য হয়ে চাষিরা লবন পানি আটকাতে গেটের সামনে নিজেরা বাঁধ দিয়ে রাখে, আবার বর্ষা মৌসুমে সেই বাঁধ অপসারন করে গেট ব্যবহার করে থাকে। উপজেলায় ৪০ টি খাল পূনখনন যোগ্য অবস্থায় আছে। গ্রামিন জনপদে অভ্যান্তরীন চলাচলের রাস্তা গুলোতে বেশী বেশী কালভার্ট নির্মান করে খালের সাথে সংযোগ করে নিরাপদ পানি সরবরাহের দাবী করেছেন চাষিরা।

অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় আইলার তান্ডবে দাকোপের সুতারখালী ও কামারখোলা এ দুটি ইউনিয়ন দীর্ঘ ২১ মাস পানির নীচে তলিয়ে ছিল। ফলে পলি জমে সেখানকার অধিকাংশ ভূমি হয়ে পড়েছে অসমতল। যে কারনে অপেক্ষাকৃত উঁচু ভূমিতে সেচ দিতে গেলে নীচু জমি জলাবদ্ধতার শিকার হয়। চাষিরা পরিকল্পিত উপায়ে এই সমস্যার সমাধান দাবী করেছেন। অধীক ফসল উৎপাদনে ভূমি সমতল, অভ্যান্তরীন গ্রামীন সড়কে পর্যাপ্ত কালভার্ট নির্মান এবং খাল খনন ও স্লুইচ গেট গুলো সংস্কারসহ উল্লেখিত সমস্যা গুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিউলি মজুমদার

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে