যানবাহনের কালো ধোঁয়ায় বায়ুদূষণে তীব্র হচ্ছে রাজধানীবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি

এফএনএস এক্সক্লুসিভ | প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
যানবাহনের কালো ধোঁয়ায় বায়ুদূষণে তীব্র হচ্ছে রাজধানীবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি

বায়ুদূষণে রাজধানীতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েই চলেছে। বাতাসে ছড়িয়ে থাকছে বিষ। ফলে রাজধানীবাসী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে হচ্ছে। আর বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস হচ্ছে পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিনের যানবাহন। পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন বাসের কালো ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ছে নগরজীবন। অভিযান চালিয়েও কমানো যাচ্ছে না। বরং দিন দিন তা আরো তীব্র হচ্ছে। ফলে নগরজীবনে নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়াচ্ছে চোখ জ্বালা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট। বরং অভিযান চালিয়ে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জরিমানা করা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না সড়কের কালো ধোঁয়া। আর শুধু শুষ্ক মৌসুমই নয়, বর্ষাকালেও ঢাকার বায়ুমানের উন্নতি হচ্ছে না। গত জুলাই শেষেও ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে ছিলো। যা সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর ও হুমকিস্বরূপ। পরিবেশ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। সেজন্য ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নির্মাণস্থলের ধুলা কমানো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। যানবাহনের ধোঁয়া থেকে নির্গত সূক্ষ্ণ কণা মানুষের ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদি বায়ুদূষণের সঙ্গে শ্বাসতন্ত্র, হৃদরোগসহ নানা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। তবে রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পথচারী ও দীর্ঘ সময় সড়কে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। যদিও পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআরটিএ ও পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আর গত জুলাইয়ে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ৯১৫টি মামলা করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ঢাকায় ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে মাত্র ৯৮টি সচল রয়েছে। ওসব রুটে চলাচল করছে বিপুলসংখ্যক ফিটনেসবিহীন যানবাহন। বায়ুদূষণ পরিস্থিতি উন্নয়নে ১ হাজারের বেশি বাস অপসারণেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু বায়ুদূষণ শুধুমাত্র ফিটনেসবিহীন যানবাহনই নয়, এর সাথে গণপরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সঙ্কটও জড়িত। ফিটনেস অনুপযোগী, ঝুঁকিপূর্ণ, ক্ষতিগ্রস্ত ও পরিবেশ দূষণকারী মোটরযান সড়কে চলতে পারবে না বলে গত জুনে বিআরটিএ জানিয়েছিলো। কিন্তু তারপরও রাজধানীর সড়কে কালো ধোঁয়া ছড়ানো বাসের উপস্থিতি কমেনি। ফলে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অথচ পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিনের যানবাহনই রাজধানীর বায়ুদূষণের বড় উৎস। 

সূত্র আরো জানায়, রাজপথ থেকে পুরোনো যানবাহন ধাপে ধাপে সরিয়ে দেয়া, কঠোরভাবে কালো ধোঁয়া নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ছাড়া বায়ুদূষণ পরিস্থিতি উন্নতির সম্ভাবনা নেই। সেক্ষেত্রে শুধু জরিমানা বা মোবাইল কোর্ট দিয়ে ওই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। বরং অর্থনৈতিক ও কারিগরি দিক থেকে চলাচলের অনুপযোগী যানবাহনকে স্থায়ীভাবে স্ক্র্যাপিংয়ের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন ও অতিরিক্ত দূষণকারী যানবাহনের তালিকা প্রকাশ করে ধাপে ধাপে সড়ক থেকে প্রত্যাহার, বাধ্যতামূলক নির্গমন পরীক্ষা, বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বিত নজরদারি এবং নিয়মিত তথ্য প্রকাশই কার্যকর সমাধানের পথ হতে পারে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) আ স ম শামসুর রহমান ভূঁঞা জানান, পরিবেশ দূষণ রোধ ও সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থেকে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমন বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তাছাড়া শব্দদূষণ রোধে যানবাহনে লাগানো অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করার পাশাপাশি নীরব এলাকায় হর্ন বাজালে জরিমানা করা হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে