শিক্ষকের মৃত্যুর ১ বছর পর ডায়েরিতে মিলল হলফনামা

এফএনএস (মোঃ আব্দুল বাতেন; গোদাগাড়ী, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ এএম
শিক্ষকের মৃত্যুর ১ বছর পর ডায়েরিতে মিলল হলফনামা

রাজশাহীর পুঠিয়ায় বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সাহাদুল হকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তাঁর মৃত্যুর পর প্রাথমিক ধারণা স্বাভাবিক অসুস্থতা বলা হলেও, সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা তাঁর ডায়েরির একটি ‘হলফনামা’ এবং স্ত্রীর দেওয়া গুরুতর অভিযোগে ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে।

মৃত্যুর প্রায় এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ডায়েরির পাতায় ‘ঝঁনলবপঃ: হলফনামা’ শিরোনামে সাহাদুল হক লিখেছিলেন, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক কিংবা অন্য যেভাবেই তাঁর মৃত্যু হোক না কেন, তার জন্য বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদ আলী   দায়ী করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ডায়েরির তথ্য প্রকাশের পর পর নিহত শিক্ষকের স্ত্রী মোছা. শারমিন আক্তার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়ে চাকরির সুবাদে প্রধান শিক্ষক আজাদ আলী তাঁর স্বামীর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে খারাপ আচরণ করতেন।

শারমিন আক্তার বলেন, "বাসায় ফিরলে ওকে খুব বিষণ্ণ ও ভারাক্রান্ত দেখাত। প্রধান শিক্ষক ওকে চরম মানসিক চাপের মধ্যে রাখতেন। এমনকি ও অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক ছুটি দিতে চাইতেন না এবং অফিসে ডেকে এনে গালাগালি করতেন। একদিন প্রচণ্ড হতাশায় ভুগেই সে ডায়েরিতে ওই কথাগুলো লিখেছিল। বিদ্যালয়ের এই চরম মানসিক চাপ ও নির্যাতনের কারণেই আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।

এক বছর আগে লেখা ডায়েরির ওই বার্তা এবং স্ত্রীর এমন অভিযোগের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষক সাহাদুল হকের ওপর কী ধরনের অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে