হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হাজার ছাড়াল, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হাজার ছাড়াল, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
ছবি: সংগ্রহীত

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২ জন। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০২ জনের।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য ও নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের এবং দুজন ময়মনসিংহ বিভাগের। এ সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জন রোগী এসেছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ৬৯ জনের শরীরে। অর্থাৎ হাম ও এর উপসর্গ মিলিয়ে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১৮৮ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকায় ৪৯৬ জন, চট্টগ্রামে ২২০ জন, সিলেটে ১৮৩ জন, বরিশালে ১৩৮ জন, খুলনায় ৫৯ জন, ময়মনসিংহে ৪১ জন, রাজশাহীতে ৩৫ জন এবং রংপুরে ১৭ জন।

একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩৪ জন ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯৬৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের শরীরে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯০৪ জনের। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৪ জনে।

এ সময় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন। চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন।

আক্রান্তের হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৭২ হাজার ৩৮ জনের এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ১৯৫ জনের শরীরে। সন্দেহজনক হামে এ বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৪০৪ জনের।

আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৩২ হাজার ৯৩৬ জনের এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৭১১ জনের শরীরে। এছাড়া বরিশাল, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগেও হাম ও হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে।

সন্দেহজনক হাম রোগীর মৃত্যুর ক্ষেত্রেও ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে বেশি চাপ দেখা গেছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলা এবং ঢাকা জেলায় সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।

এদিকে হাম-রুবেলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এ কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন। এর বিপরীতে টিকা পেয়েছেন ১ কোটি ৯৭ লাখ ৪৬ হাজার ৭৭৩ জন। এতে জাতীয় পর্যায়ে টিকাদানের কাভারেজ দাঁড়িয়েছে ১০৯ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিভাগগুলোর মধ্যে টিকাদানের কাভারেজ সবচেয়ে বেশি ময়মনসিংহে, ১১৫ শতাংশ। সিলেটে সবচেয়ে কম ১০৪ দশমিক ৩ শতাংশ হলেও সেখানেও কাভারেজ ১০০ শতাংশের বেশি।

সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জন। এর বিপরীতে টিকা পেয়েছেন ২০ লাখ ৬৯ হাজার ৯১১ জন। এসব এলাকায় টিকাদানের কাভারেজ ১০৮ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সর্বোচ্চ ১১৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং রংপুর সিটি করপোরেশনে সর্বনিম্ন ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ কাভারেজ হয়েছে।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। শিশুদের মধ্যে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। চলমান সংক্রমণের মধ্যে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর হিসাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে প্রকাশ করছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে