বাগমারায় ১৫ টাকা কেজি চাল বিতরণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ

এফএনএস (বাগমারা, রাজশাহী)
| আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম | প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
বাগমারায় ১৫ টাকা কেজি চাল বিতরণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় সরকারি মূল্যে ১৫ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চাল নিতে আসা উপকারভোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত টাকা নেওয়া এবং নতুন কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ৮ নম্বর কাচারী কোয়ালীপাড়া ইউনিয়নের ১, ২, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিক। বৃহস্পতিবার অভিযোগটি দাখিল করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায় , ওই ইউনিয়নের পীরগঞ্জ বাজারের ডিলার পয়েন্ট থেকে ভুক্তভোগীরা সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সংগ্রহ করে আসছেন। গত ২ সেপ্টেম্বর চাল নিতে গেলে তাঁদের কাছ থেকে প্রতি কার্ডে অতিরিক্ত ৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। অথচ সরকারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী চালের দাম ১৫ টাকা কেজি। অর্থাৎ এক একজন কাছ থেকে ৪৫০ টাকা নেয়ার কথা। অভিযোগকারীরা জানান, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে ডিলারকে জিজ্ঞাসা করা হলে নতুন কার্ড করে দেওয়ার জন্য ওই টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা অফিসে খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, এ ধরনের অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে ডিলার ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বাগ্‌বিতণ্ডা চলে। এ সময় বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার বেশ কিছু মৌখিক সাক্ষী ও ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে এলাকায় অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। ৮ নং ওয়ার্ডের নজির নাম এক উপকারভোগী বলেন, বহুজনাক থেকে ৫০ টাকা করে বেশি নিয়েছিল। অনেক ক্যাচাল হয়েছিল ডিলারের সাথে আমাদের। পরে আমরা মেম্বারের জানালে মেম্বারের সাথেও ক্যাচাল হয়। মেম্বারের কারণে আমরা অনেকেই ফেরত পেয়েছি টাকা। এখন অনেক জনে টাকা ফেরতই পাইনি। নতুন বই দিবে বলে ৫০ টাকা করে নিচ্ছে এত টাকা তো লাগেনা। সাড়ে চারশত জন উপকারভোগী সবাক থেকে ৫০ টাকা করে নিলে হবে কত টাকা। ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, চাল বিক্রির সময় বেশি টাকা নিচ্ছে এমন অভিযোগ করে লোকজন। পরে আমি গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাই। টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আমার সাথে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে অনেক চেষ্টা করে উপকারীদের টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করে দিই। পরে শুনি যে এখনো সবাই টাকা পায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার মামুনুর রশীদ বলেন, কিছু কার্ড দুর্বল হয়ে গেছে আর কিছু ছিড়ে গেছে সে কারণে আমি তাদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নিতে লাগছিলাম নতুন কার্ড দেয়ার জন্য। পরে মেম্বারসহ উপকারভোগীরা এসে আমাকে বলে টাকা নেয়া যাবেনা। তারপর থেকে আর কোন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়নি। এদিকে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, এভাবে টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। কেন এমন ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে