‘লোটাস লাইটে’ সৌন্দর্য বেড়েছে বরিশাল নগরীর

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০২ পিএম
‘লোটাস লাইটে’ সৌন্দর্য বেড়েছে বরিশাল নগরীর

বরিশাল নগরীর চৌমাথা লেকের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। লেকের চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে পদ্মফুল আকৃতির দৃষ্টিনন্দন ‘লোটাস লাইট’। সন্ধ্যার পর এসব বাতি জ্বলে উঠলে লেকের পানিতে আলোর প্রতিফলনে তৈরি হচ্ছে মনোরম পরিবেশ। এতে আকৃষ্ট হচ্ছেন নগরবাসী ও আগত দর্শনার্থীরা। বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী অহিদ মুরাদ বলেন, আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় সৌন্দর্যবর্ধক সড়কবাতির এমন ব্যবহার অনলাইনে দেখে বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন চৌমাথা লেককে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, চৌমাথা লেকে পর্যায়ক্রমে আরও ‘লোটাস লাইট’ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি পার্ক সংস্কার, বটগাছে ঝাড়বাতি স্থাপন, দর্শনার্থীদের বসার স্থান তৈরি, চারপাশে সবুজায়ন এবং বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, ঢাকার পর বাংলাদেশে বরিশালেই প্রথমবারের মত এ ধরনের লোটাস লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এর আগে গত মে মাসে চৌমাথা লেকে মিউজিক্যাল ও ড্যান্সিং ফোয়ারা চালু করে সিটি করপোরেশন। বর্ণিল আলো, পানির নৃত্য ও সংগীত উপভোগ করতে উদ্বোধনের পর থেকেই লেক এলাকায় মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। এবার এর সঙ্গে লোটাস লাইট যুক্ত হওয়ায় রাতে লেকের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর লেকের চারপাশে হাঁটতে আসা মানুষ দাঁড়িয়ে থেকে আলোকসজ্জা উপভোগ করছেন। পরিবার নিয়ে আসা মানুষ, শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীদের কাছে স্থানটি ধীরে ধীরে বিনোদনের আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

ঘুরতে আসা সোনিয়া আক্তার বলেন, চৌমাথা লেকের পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক সুন্দর হয়েছে। পরিবার নিয়ে সন্ধ্যায় এখানে সময় কাটাতে ভালো লাগে। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও বসার ব্যবস্থা আরও উন্নত করা প্রয়োজন। বরিশাল সরকারি হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থী রাব্বি ইসলাম বলেন, লোটাস লাইট ও ফোয়ারা চালুর পর রাতে লেকের পরিবেশ অনেক আকর্ষণীয় হয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে নগরবাসীর জন্য এটি একটি ভালো বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠবে।

নগরবাসী বলছেন, কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত বরিশাল শহরটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি প্রধান শহর। এ নদীর তীরে রয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী বন্দর। আর এ ঐতিহ্যবাহী শহরের নাগরিক জীবনে বিনোদন ও নান্দনিক পরিবেশের প্রয়োজন রয়েছে। কর্মব্যস্ত দিনের পর পরিবার নিয়ে কিছুটা সময় কাটানোর মতো নিরাপদ ও সুন্দর স্থান নগরীতে সীমিত। এ কারণে তারা চৌমাথা লেকের পাশাপাশি বিবির পুকুরপাড় ও পদ্মপুকুরকেও পর্যায়ক্রমে সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের প্রতি।

তাদের মতে, শুধু আলোকসজ্জা ও ফোয়ারা নয়, বসার ব্যবস্থা উন্নত করা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাঁটার পথ এবং লেকের পানি পরিষ্কার রাখা ও অবৈধ দখলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা গেলে চৌমাথা লেক বরিশালের অন্যতম প্রধান নাগরিক বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, চলমান সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে চৌমাথা লেক নগরবাসীর বিনোদনের পাশাপাশি বরিশালের অন্যতম নান্দনিক স্থান হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, নগরবাসীর বিনোদন ও নান্দনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চৌমাথা লেককে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে লেক ও এর আশপাশের সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। নগরবাসীর জন্য একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ বিনোদন পরিবেশ গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে