ভালুকা মাদকের ভয়াল থাবা, ধ্বংসের পথে যুবসমাজ। মাদকাসক্তি একটি সামাজিক ব্যাধি,সর্বগ্রাসী মরণনেশা। এ নেশার কারণে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে ভালুকার যুবসমাজ। মাদকের নীল দংশনে তরুণ সমাজ আজ বিপথগামী, মাদকের বিষবাষ্প দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলে। মাদকের বিষাক্ত ছোবলে তুন প্রজন্মের উজ্জল ভবিষৎকে নিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের দিকে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রশ্ন মাদক কিভাবে দেশে আসে। এসব কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সচেতন মহলের ।
জানাযায়,ভালুকার মাদকের ভয়াল থাবায় ধ্বংসের মুখে দাড়িয়ে আছে যুবসমাজ। ফেনসিডিল, ইয়াাবা ও গাঁজার মতো মাদকের সহজলভ্যতার কারণে কিশোর ও তরুনরা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। মাদক গ্রহণের ফলে কিডনি, লিভার ও মস্তিসকের ক্ষতি হচ্ছে। মাদকের টাকা যোগার করতে চুরি, ছিনতাই ও মারামারির মতো অপরাধ দিন দিন বাড়ছে। মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেও থামাতে পারছে মাদক সেবন।
অভিভাবকদের অভিযোগ ভালুকা উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ছাত্রছাত্রী, যুবক-যুবতী,শ্রমিক থেকে শুরু করে প্রায় সকল পেশার মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে যাচ্ছে। যে বাড়ীতে একজন মাদক সেবী রয়েছে সেই পরিবারের নেমে আসছে অশান্তি। সমাজকে সুস্থ রাখতে হলে ছেলেমেয়েরা যাতে মাদকাসক্ত না হয়, সেদিকে প্রতিটি নাগরিকের সচেতন হওয়া উচিত। সমাজ কে মাদক মুক্ত করতে হলে মাদক পাচার বন্ধে কঠিন প্রদক্ষেপ নিতে আইনশৃংখলা বাহিনীসহ সকলকে সচেতন হতে হবে। বিগত সরকারের সময় এমপি,মন্ত্রীর ছত্রছায় প্রসাশনের সহযোগীতায় পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে মাদক আমদানীর অভিযোগ ছিল। তৎকালীন সময়ে অভিযুক্ত কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছিল। এতেও মাদক পাচার বন্ধ হয়নি। মাদকের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিজের সন্তানকে রক্ষার জন্য মা-বাবাসহ সচেতন মহল আতংকিত রয়েছে।
উপজেলার গোয়ারী গ্রামের দিন মজুর নাসির উদ্দিন জানান তার ৩২ বছর বয়সের একমাত্র ছেলে ফয়সাল এলাকার মাদক সেবীদের পাল্পায় পড়ে নেশার জগতে ঝুকে পড়ে। দৈনিক তাকে নেশা করার জন্য টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে মারধরসহ ঘরের আসবাব ভাংচুর করে। থাকার ঘরের টিনের চালা পর্যন্ত বিক্রি করে নেশা সেবন করেছে। এখন নেশার টাকা যোগাতে অন্যের বাড়ীতে চুরি করা শুরু করেছে। আমি নিজে ছেলেকে পুলিশে দিয়েছি কিন্তু কিছুদিন পর জেল থেকে বের হয়ে আসে। বর্তমানে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় রিহাবে সেন্টারে দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মাদক ব্যবসায়ী জানায়,ভালুকা উপজেলায় গাঁজা,ইয়াবা,হিরোইন,দেশি-বিদেশি মদ ফেনসিডিলের ছড়াছরি। ভালুকার পার্শ্ববর্তী উপজেলা গফরগাঁও,পাগলা ত্রিশাল,শ্রীপুর ও সখীপুর সীমান্তের বেশ কয়েকটি স্পট দিয়ে ইয়াবা ও গাজাঁ পাচার হয়। মাদক পাচারে মহিলা,ছদ্ধবেশী ভিক্ষুক, টুকাই,বখাটে মটরসাইকেল প্রাইভেটকার,ব্যবহার করা হয়। মাদক ব্যবসায়ীরা পর্দার আড়ালে বসে মাদক পরিচালনা করে।,সেবনকারীরা মাদক সেবনের নিরাপদ স্থান হিসাবে বেছে নেয় অধিকাংশ মৎস্য খামারের পাহারদারের ঘর,গ্রাম গঞ্জের নির্জন এলাকা ও নির্মাধীন ভবন। পৌরসভার ভিতর পশু হাসপাতাল,ভালুকা সরকারী হাসপাতাল সংলগ্ন,উপজেলা পরিষদের পিছনে,কোট ভবন এলাকায় ডিগ্রী কলেজ এর আশপাশে। নিরাপদ স্থান কারন রাতে এসব স্থানে নেশা সেবনে পুলিশের ভয় কম থাকে। ধনী ঘরের সন্তানেরা মাদক কারবারে টাকা বিনিয়োগ করে থাকে। পরে বিকাশের মাধ্যমে অগ্রিম টাকা নিয়ে মোখশধারী লোক দিয়ে মাদক সেবীদের হাতে পৌছে দেয়া হয়। অনেক সময় মাদকের বড় চালান পাচার হওয়ার আগে যে রোডে পরিবহন করা হবে সেই রোডে দায়িত্বরত পুলিশকে ম্যানেজ করতে হয়। একেক দিন একেক স্থান দিয়ে মাদক পাচার করা হয়। মাদক ব্যবসার নিরাপদ স্থান ভালুকা উপজেলায় হবিরবাড়ী শিল্প এলাকায়। কারন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা এসে বাসা ভাড়া নিয়ে মাদক ব্যবসা করে থাকে। সন্ধার পর বিক্রেতারা মটরসাইকেল যোগে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাদক পাচার করে। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। নদী পথে গাজাঁর বড় চালান আসে আখাউড়া থেকে। ভারত থেকে মদের বড় চালান গুলো সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট থেকে ভালুকায় হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম জানান,মাদক নিয়ন্ত্রনে দিন রাত অভিযান করা হচ্ছে। গত ৫ মাসে ৬১ টি মাদক মামলা করা হয়েছে। চার শত ষাট জন মাদক কারবারীসহ সেবনকারীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৩২ লাখ টাকার মাদক। এছাড়াও র্যাব ও হাইওয়ে পুলিশ গাড়ীসহ মাদকের তিন থেকে চারটি বড় চালান আটক করেছে। পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রনে জিরো ট্রলারেন্স কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু মুল হোতারা এখনো ধরাছুয়ার বাহিরে রয়ে গেছে।