যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলের পলিনেট নার্সারিতে হাইব্রিড মরিচের চারা উৎপাদন ও বেচাকেনা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নার্সারি মালিক ও শ্রমিকেরা। মৌসুমের শুরুতেই মানসম্মত হাইব্রিড মরিচ চারার চাহিদা তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে। ফলে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চাষিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠছে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার পলিনেট নার্সারি গুলো।
উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর চরাঞ্চলে প্রায় চার বছর আগে আধুনিক প্রযুক্তির পলিনেট নার্সারিতে হাইব্রিড মরিচের চারা উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে উপজেলার কাজলা, কর্ণিবাড়ী ও চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নে ব্যাপক হারে এ প্রযুক্তিতে হাইব্রিড মরিচ চারা তৈরি হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি এ চারা উৎপাদন হচ্ছে কাজলা ইউনিয়নে। এই ইউনিয়নেই গড়ে উঠেছে ১৫০টিরও বেশি ছোট-বড় পলিনেট নার্সারি।
কাজলা ইউনিয়নের শাহজালাল বাজারের নার্সারি মালিক জাকির হোসেন জাকি বলেন, ‘চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে নার্সারি করেছি। প্রথমার্ধে বীজ, পরিচর্যা ও শ্রমে প্রায় ১৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চারা বিক্রি শেষে ২৬ লাখ টাকা পাওয়ার আশা করছি।’ তিনি আরও জানান, প্রতি কেজি হাইব্রিড মরিচের বীজ কিনতে হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকায়। তাঁর নার্সারিতে প্রতিদিন ১ জন প্রশিক্ষিত স্টাফসহ ১১ জন শ্রমিক কাজ করছেন, যাঁদের দৈনিক জন প্রতি ৬০০ থেকে ১,১০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।
অধিক রোদ -বৃষ্টি সহনীয় পলিনেট নার্সারি গুলোতে দেখা গেছে, চারা কিনতে আসা হাজারো চাষির ভিড়। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ী, তারাগঞ্জ ও ইসলামপুর,ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এবং বগুড়ার জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এসে চাষিরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পছন্দের চারা সংগ্রহ করছেন।হাইব্রিড মরিচ চাষ করে বাজারে ভালো দাম পেতেই মূলত এখানকার মানসম্মত চারার ওপর আস্থা রাখছেন।
চরাঞ্চলে আধুনিক এই চারা উৎপাদন প্রযুক্তির বিস্তারে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন রূপ এসেছে অন্য দিকে নার্সারি মালিকেরা লাভবান হচ্ছেন, তেমনি চরাঞ্চলের শত শত বেকার নারী-পুরুষের স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সারিয়াকান্দির খ্যাতি এখন শুধু মরিচ উৎপাদনের জন্য নয়, মানসম্মত চারা সরবরাহের প্রধান বাজার হিসেবেও ছড়িয়ে পড়ছে। সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, পলিশিট নার্সারিতে মানসম্মত হাইব্রিড মরিচের চারা উৎপাদনে কাঁচা মরিচের আশাতীত উৎপাদন বেড়েছে। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষক।