দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বড় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় কিশোরগঞ্জের ক্ষুদ্র বেকারি শিল্প চরম সংকটে পড়েছে। জেলার শতাধিক ক্ষুদ্র বেকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির নেতৃবৃন্দ।
ক্ষুদ্র বেকারি শিল্প রক্ষায় সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার দাবিতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়া বাজার ব্রিজ সংলগ্ন বিজয় চত্বরে মানববন্ধন করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি বেকারি শিল্পের প্রধান কাঁচামালের দামও বেড়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জেলার অনেক ক্ষুদ্র বেকারি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ সময় বক্তারা বেকারি শিল্পের প্রধান কাঁচামালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল বাণিজ্যিক হারের পরিবর্তে শিল্পহারে নির্ধারণ, ক্ষুদ্র বেকারি মালিকদের সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ প্রদান, বিএসটিআই লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্সের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং হয়রানি বন্ধের দাবি করেন তারা।
এ ছাড়া বৃহৎ কোম্পানির সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা থেকে ক্ষুদ্র বেকারিগুলোকে রক্ষায় সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণারও দাবি জানান সমিতির নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সাব্বির আহমেদ, সহ-সভাপতি মো. বাচ্চু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আজিজুল হক, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম রাসেল ও উপদেষ্টা সমরেশ চন্দ্র দত্তসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন শেষে সমিতির নেতৃবৃন্দ পাঁচ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারক লিপি দেন।
সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশীয় ক্ষুদ্র বেকারি শিল্প ও এর সঙ্গে জড়িত হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থান রক্ষায় সরকারের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।