নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেট ও এস আর প্লাজার সার্বিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার পরও মার্কেটে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। এ অবস্থায় মার্কেটের পরিবেশ ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেট ও এসআর প্লাজার মালিক আলহাজ্ব শামসুল হক ভূঁইয়া। তিনি ঢাকায় বসবাস করেন। মার্কেট নির্মাণের পর এর সার্বিক দায়িত্ব প্রকল্প পরিচালক আলহাজ্ব গুলজার আহমেদ আশরাফীর ওপর ন্যস্ত করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্মাণের পর থেকে মার্কেট দুটিতে প্রত্যাশিতভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য জমে ওঠেনি। অধিকাংশ দোকান বরাদ্দ দেওয়া হলেও মালিক পক্ষেরও বেশ কিছু দোকান রয়েছে। শুরুর দিকে প্রতি দোকান ৩ থেকে ৪ লাখ টাকায় বরাদ্দ দেওয়া হলেও বর্তমানে অনেক দোকানের বরাদ্দমূল্য ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সৈয়দপুর প্লাজার পরিবেশ নিয়ে শুরু থেকেই নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মার্কেটের কয়েকটি ফাস্টফুড দোকানকে কেন্দ্র করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অতীতে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ও মামলা হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দোকানে মদ ও ফেনসিডিল বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় দোকান মালিকদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মার্কেটটিতে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও নতুন নয় বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। বাইরের ক্রেতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। প্রায়ই মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটত বলেও তারা জানান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগের নতুন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দিনের বেলায় মার্কেটের দোকানে চুরির ঘটনা। ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন দিন-রাত নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন এবং পুরো মার্কেট সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকার পরও কীভাবে দিনের বেলায় দোকানে চুরি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, মার্কেট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত ও কার্যকর নজরদারির ঘাটতির কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা, সিসি ক্যামেরার কার্যকারিতা নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চলাচলের ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে সৈয়দপুর প্লাজায় ব্যবসায়ী সমিতিও রয়েছে। সমিতির সদস্যরা মার্কেটের পরিবেশ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে নিজেদের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এরপরও চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগ ওঠায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে সৈয়দপুর প্লাজার প্রকল্প পরিচালক আলহাজ্ব গুলজার আহমেদ আশরাফী বলেন, আমরা সাধ্যমতো নজরদারি করে যাচ্ছি। তারপরও কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে, তা বুঝতে পারছি না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, একটি বড় বাণিজ্যিক মার্কেটের সুনাম ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ধরে রাখতে শুধু নিরাপত্তাকর্মী ও সিসি ক্যামেরা থাকলেই হবে না; এগুলোর কার্যকর ব্যবহার ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে চুরি-ছিনতাই ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এজন্য মার্কেট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও নিয়মিত নজরদারি চান তারা।