বরগুনার তালতলীতে লোডশেডিংয়ে 'রাফি পল্টি ফার্ম' নামে একটি খামারের ১৯০ টি ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা মারা গেছে। খামারির ১৩ হাজার ৩০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের সিলভার তলী এলাকার মো. রফিক মিয়ার খামারে এ ঘটনা ঘটে। রফিক মিয়া একই এলাকার চাঁন মিয়া মীরার ছেলে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিন বছর ধরে রফিক মিয়া নিজ বাড়িতে 'রাফি পল্টি ফার্ম' নামে একটি ব্রয়লার মুরগি খামার পরিচালনা করে আসছেন। সবশেষ তিনি ‘কালার বার্ড’ জাতের দুই দিন বয়সী ৫৬০টি ব্রয়লারের বাচ্চা এনে খামারে ব্রুডিং (কৃত্রিম উপায়ে তাপ দেওয়া) শুরু করেন। কিন্তু মঙ্গলবার রাতজুড়ে এলাকাটিতে চরম লোডশেডিং চলে। সারা রাতে চার ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের লাইটগুলো বন্ধ ছিল। প্রয়োজনীয় বিকল্প তাপের ব্যবস্থা না থাকায় ১৯০টি বাচ্চা মারা যায়। এতে তাঁর ১৩ হাজার ৩০০ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে রফিক মিয়া বলেন, "রাতে লোডশেডিংয়ের কারণে বাতি জ্বালিয়ে বাচ্চাগুলোকে প্রয়োজনীয় তাপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ভোরে খাবার দিতে গিয়ে দেখি বাচ্চাগুলো মরে পড়ে আছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণেই আমার এই বড় ক্ষতি হলো।" পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তালতলী সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএন্ডএম) মো. মোতাহার উদ্দিন বলেন, "উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ৫ থেকে সাড়ে ৫ মেগাওয়াট। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র আড়াই থেকে ৩ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেক হওয়ায় বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।" ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার শিকদার বলেন, "সদ্য জন্ম নেওয়া মুরগির বাচ্চার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ব্রুডিংয়ে সমস্যা, অতিরিক্ত ঠান্ডা, পানিশূন্যতা বা বাতাস চলাচলের বিঘ্ন ঘটলে বাচ্চার মৃত্যু হতে পারে। তবে মৃত বাচ্চাগুলো পরীক্ষা করে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।"