গজারিয়ায় অবৈধ চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

এফএনএস (মোঃ আমিরুল ইসলাম নয়ন; গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
গজারিয়ায় অবৈধ চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া এবং অবৈধ ভাবে কাঠ ও পাথর পুড়িয়ে কারখানা পরিচালনা করার অপরাধে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি অবৈধ চুনা কারখানা ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই বিশাল চুনা কারখানার চুল্লি বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাঠ ও পাথর পোড়ানো হচ্ছিল। চুল্লির বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল চারপাশ। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়েন জড়িত ব্যক্তিরা। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও চুল্লির আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের উপস্থিতিতে ভেকু দিয়ে কারখানার চুল্লি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাফসা নাদিয়ার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ছানোয়ার হোসেন, গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ফিরোজ মিয়া এবং গজারিয়া থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল। এদিকে অবৈধ চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, অবৈধ ও পরিবেশ বিধ্বংসী এই কারখানা অনেক দিন ধরে চলছিল। কাঠ ও পাথর পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়া আশপাশের এলাকার মানুষের থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। এটি গুঁড়িয়ে দেওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।

আরেকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান,আইন অমান্য করে বারবার কারখানার কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে পুরো এলাকা পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা পেল।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ১২ সেপ্টেম্বর উক্ত অবৈধ চুনা কারখানা পরিচালনার বিরুদ্ধে প্রথম দফায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও উম্মে হাফসা নাদিয়া। সে সময় কারখানার কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এবং আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। তবে সাজা দেওয়ার মাত্র দুই দিন পরেই প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় তাদের কার্যক্রম চালু করে। বারবার আইন অমান্য করায় এবার ভেকু মেশিন দিয়ে চুল্লিসহ পুরো অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাফসা নাদিয়া বলেন, আমরা পূর্বেও প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করেছিলাম এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ সাজা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আদেশ অমান্য করে আবার অবৈধ কার্যক্রম চালু করে। আজ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভেকু দিয়ে চুল্লি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে