কিশোরগঞ্জে গ্রন্থাগারিক দক্ষতা উন্নয়ন ও আধুনিক গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির আয়োজনে, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সহযোগিতায় এবং সুফিয়া-মান্নান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। কিশোরগঞ্জ জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির সভাপতি মোঃ রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার বর্মনের সঞ্চালনায় উক্ত কর্মশালার শুভ উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান ভিপি সোহেল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক কথা সাহিত্যিক আফসানা বেগম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সুফিয়া মান্নান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. ইয়াসমিন আহমেদ। সম্মানিত আলোচক ছিলেন,জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উপ-পরিচালক মো: ফরিদ উদ্দিন সরকার, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উপগ্রন্থাগারিক রাসেল রানা, জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী পরিচালক আজিজুল হক সুমন, চার্টার অ্যাকাউন্ট্যান্টস মো. ইকরামুল কবির।
অন্যন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগারের সভাপতি আমিনুল হক সাদী, সুফিয়া-মান্নান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোবারক হোসেন।
সভায় বক্তারা বর্তমান বাস্তবতায় একটি আদর্শ গ্রন্থাগার কেমন হওয়া উচিত, বেসরকারি গ্রন্থাগার নির্দেশিকা সফটওয়্যার অনুদানের জন্য আবেদন ও গ্রন্থাগার প্রতিনিধিদের করণীয়, গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা: সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, বই আদান-প্রদান ও রেফারেন্স/সাময়িকী, গ্রন্থাগারে পাঠোপকরণ সংরক্ষণ, ছাটাইকরণ ও প্রতিষেধক ব্যবহার, তরুণ প্রজন্মকে গ্রন্থ ও গ্রন্থাগারমুখী করতে গ্রন্থাগার প্রতিনিধিদের করণীয়, বেসরকারি গ্রন্থাগারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অডিটিং বিষয়ে বিস্তা আলোচনা করেন। এছাড়া হাওরাঞ্চলের বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর উন্নয়ন, হাওরে ভাসমান নৌ পাঠাগার স্থাপন, স্থানীয় পর্যায়ে পাঠক তৈরি ও বই পড়ার অভ্যাস বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে তথ্য ও জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন গঠনমূলক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জেলার ১৩ টি উপজেলার ৬০ জন গ্রন্থাগার / গ্রন্থাগারিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।