নওগাঁর মহাদেবপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা লোকমান আলী (৫৫) নামে এক চাষিকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। তিনি উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের বামনসাতা গ্রামের মৃত সুজন হোসেনের ছেলে। আহত হয়েছেন তার ছেলে নাইম (২৫)। রোববার (২০) সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গ্রামের মাঠের একটি খেতে কাজ করার সময় প্রতিপক্ষরা এ হামলা চালায়।
আহত নাইম জানান, ১৯৯৮ সালে তার বাবা আদালতে একটি বাটোয়ারা মোকদ্দমা দায়ের করেন। ২০১৫ সালে আদালতযোগে তাদের ২৫ শতক জমির দখল বুঝে দেয়া হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষরা এরমধ্যে ১৫ শতক জমি দখলে নিতে একের পর এক ক্ষতি সাধন করে যাচ্ছে। গত ১০ আগস্ট আগাছানাশক প্রয়োগ করে ওইজমিতে রোপণ করা ধানগাছ বিনষ্ট করা হয়। লোকমান আলী সেসময় সেখানে কয়েকটি আমগাছের চারা রোপণ করেন। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রতিপক্ষরা আমগাছের চারাগুলো উপড়ে ফেলে। জানতে পেরে লোকমান আলী এর প্রতিবাদ জানালে প্রতিপক্ষরা তাকে নানান হুমকি দেয়। এরই জের ধরে রোববার ভোরে লোকমান আলী ও তার ছেলে পাশের অন্য একটি খেতে কাজ করতে গেলে প্রতিপক্ষরা হাসুয়া, লোহার রড, লাঠি প্রভৃতি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এতে দুজনেই আহত হন। লোকমান আলীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। তার মাথায় ৭টি সেলাই দিতে হয়েছে এবং ডান হাত ভেঙ্গে গেছে।
এব্যাপারে লোকমান আলীর স্ত্রী নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে বামনসাতা গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের দুই ছেলে ফেরদৌস ও সিদ্দিক, মৃত হোসেন আলীর দুই ছেলে নাজিম উদ্দিন ও আব্দুর রহমান, নাজিম উদ্দিনের ছেলে রানা, আয়েজ উদ্দিনের দুই ছেলে চয়েন ও আয়নালের বিরুদ্ধে মহাদেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানতে চাইলে প্রতিপক্ষ আয়নাল বলেন, তারা হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেছেন। কোর্ট থেকে যে দখল দেয়া হয়েছে তা ভূয়া। জমি দখল করতে দিবেন না জন্যই আমগাছগুলো কেটেছেন। রোববারের ঘটনায় তাদেরও দুজন আহত হয়েছেন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। মহাদেবপুর থানার এসআই আব্দুল মতিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।