ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শহরের মোবারক আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২ শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।রোববার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোবারক আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান বাবু, প্রধান শিক্ষক আজমল হাসান টিপু, সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শিবুপদ বিশ্বাস, প্রকল্প কর্মকর্তা মটর কুমার মণ্ডলসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।প্রধান অতিথির বক্তব্যে হামিদুল ইসলাম হামিদ বলেন,পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু পরিবেশকে সবুজ করে না, এটি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সরকার পাঁচ বছরে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের শুধু গাছ লাগাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে না, বরং ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যদি একটি করে গাছ লাগিয়ে সেটি পরিচর্যা করে বড় করে তোলে, তাহলে ভবিষ্যতে এর সুফল পুরো সমাজ পাবে।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজমল হাসান টিপু বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে তোলা আমাদের দায়িত্ব। আজ যারা গাছের চারা সংগ্রহ করেছে, তারা যদি নিয়মিত গাছ গুলোর পরিচর্যা করে, তাহলে এই ছোট উদ্যোগ একসময় বড় একটি সবুজ কর্মসূচিতে পরিণত হবে।”
সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শিবুপদ বিশ্বাস বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি এবং বৃক্ষরোপণের অভ্যাস গড়ে তোলাই আমাদের এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। শুধু চারা বিতরণ নয়, শিক্ষার্থীরা যেন গাছগুলো রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যা করে এবং অন্যদেরও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করে সেদিকেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।”