ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু করেছেন গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং যুব কর্মসংস্থান—বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কর্মকান্ড এগিয়ে যাচ্ছে। উপজেলার নাগরী এলাকার স্বপ্ন কানন রিসোর্টে অনুষ্ঠিত উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন এসব বলেন।
সভায় এমপি মিলন বলেন, “আমি উন্নয়নের কথা বলি কাজ দিয়ে, কথা দিয়ে নয়। কালীগঞ্জের উন্নয়নের ইতিহাস খুঁজে দেখুন—সবখানে আমাকে পাবেন।” আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষা খাতকে অন্যতম অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন কাজ শুরু করেছি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জে ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৩ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে মসলিন কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ে চারতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। পাশাপাশি কালীগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জুগলী উচ্চ বিদ্যালয়, জামালপুর রাজমোহন বিদ্যাপীঠ, চুপাইর বালিকা বিদ্যালয়, ভাইয়াসুতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কালীকুটি দাখিল মাদ্রাসার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলার ৯৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ড, শিক্ষা উপকরণ, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সরঞ্জাম, পানির ফিল্টার প্রদান, অস্বচ্ছল মেধাবী ১৫৭ শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল এবং ১৫০ জন দুঃস্থ নারীকে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কালীগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ১৭ কোটি টাকার ৩টি প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। মোক্তারপুর ইউনিয়নে স্থাণীয় হাসেম শেখের বাড়ি থেকে সোলায়মানের টেক মসজিদ পর্যন্ত সড়ক এইচবিবি করণ, মাঝুখান থেকে কালীগঞ্জ দৃষ্টিনন্দন সড়ক প্রকল্প এবং জামালপুর ইউনিয়নের জাঙ্গালীয়া জিসি থেকে জামালপুর জিসি হয়ে দোলন বাজার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক সহায়তা হিসেবে ২০টি পরিবারকে ছাগল, ১০টি পরিবারকে গৃহনির্মাণ সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও ৮৩টি মসজিদ, মন্দির, গির্জা, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ১ কোটি ৭০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। এবং উপজেলার ১৯টি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ১৯ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
এমপি মিলন বলেন, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান ৫০ শয্যার সক্ষমতা ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। হাসপাতালটিতে এমআরআইসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যুবকদের বিষয়ে তিনি বলেন, যুব সমাজই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি প্রশিক্ষণ, কর্মমুখী শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে কালীগঞ্জের হাজারো তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এসব কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও উন্নত কালীগঞ্জ গড়ে তোলাই একমাত্র লক্ষ্য বলে জানান গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন।
এ সময় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার, সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলুসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।