মেলান্দহে প্রকৃতি ও রৌমারি বিল রক্ষায় চেয়ারম্যানের উদ্যোগ

এফএনএস (শাহ জামাল; মেলান্দহ, জামালপুর) : | প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
মেলান্দহে প্রকৃতি ও রৌমারি বিল রক্ষায় চেয়ারম্যানের উদ্যোগ

প্রকৃতি-পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশীয়-ওষুধি গাছপালা রক্ষায় হিল্লোল চেয়ারম্যান ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি জামালপুর জেলার মেলান্দহের ঝাউগড়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান, স্থানীয় মুক্তিসংগ্রাম যাদুঘরের ট্রাস্টি এবং প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ জন উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা। 

তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-রাস্তাঘাটসহ বহু জায়গায় ১০ সহস্রাধিক বৃক্ষ রোপন এবং বিতরণ করেছেন। বৃক্ষরোপন-বিতরণসহ পর্যটন এলাকা খ্যাত ঐতিহাসিক বিনোদন কেন্দ্র রৌমারী বিলের ঐতিহ্য রক্ষায়ও কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিটি গাছ রক্ষণাবেক্ষণে ব্যায় করছেন ৬/৭ শ’ টাকা।

তাঁর রোপিত বৃক্ষের তালিকায় আছে শিমুল, কৃষ্ণ চূড়া, কনক চূড়া, হলুদ রাধা চূড়া, লাল রাধা চূড়া, নাইচি উদাল, লাল উদাল, কুরচি, রক্ত কাঞ্চন, সাদা কাঞ্চন, অর্কিড কাঞ্চন, দেব কাঞ্চন, বরুণ, ক্যাসিয়া, ডেউয়া, বুদ্ধ নারিকেল, ছাতিম, সাদা কাঠ গোলাপ, ফরুস, দই গোটা, রিঠা, স্থল পদ্ধ, জলপদ্ধ, সোনাপাতি, কাজারান্ডা, অশোখ, জারুল, মনিমালা, লাল সোনাইল, নাগ লিগ্মম, নাগেশ্বর, তমাল, ট্যাবে বুইয়া, টিটুমা, বেগুনি জুমকা লতা, অনন্তলতা, সাদা অনন্তলতা, নীন মনি লতা, চামেলি, জুঁই, দেশী গন্ধরাজ, কৃষ্ণ চূড়া, আমলকি, বহেরা, হরতকি, কাঠ বাদাম, কাজু বাদাম, পাম, গর্জন, তেলসুর, ডাউয়া, মালতী লতা, কনক সুধা, সুলতান চাপা, পাম-নারিকেল, কাঠালি চাপাসহ আরো বহু ধরণের ওষুধি বৃক্ষ উল্লেখযোগ্য।

কৃষক আবুল কাশেম (৫৬) জানান-হাইব্রিডের যুগে দেশীয় ও ওষুধি গাছ প্রায় বিলীন। হিল্লোল চেয়ারম্যানের ওষুধি, দেশীয় গাছপালা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ ওষুধেরও চাহিদা মিটবে।

হিল্লোল চেয়ারম্যান বলেন, মাটি-পানি-ফসল, ফল-মূল এবং বৃক্ষরাজিতে আগের মতো উপকারি পোকামাকড়সহ পশু-পাখি নেই। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষি-মৎস্য-জলবায়ু এবং আমাদের প্রকৃতির উপর। সবমিলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরো প্রকট হচ্ছে। দেশীয় বৃক্ষরাজিতে প্রকৃতির চাহিদা পূরণসহ দেশীয় পাখি এবং বন্ধু কীটপতঙ্গসহ উপকারি জীবের অভয়াশ্রম হবে। লক্ষ্যনীয় যে, হাইব্রিড গাছে পাখি থাকে না। দেশীয় গাছে পাখির কলরবে প্রকৃতিকে মুখরিত করে।

রৌমারী বিলের তীরে বেশ কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে। হিল্লোল চেয়ারম্যান রৗমারী বিলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেও উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। রুই মাছের জন্য পরিচিত রৌমারী বিলের দেশীয় মাছ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। এ জন্য বছর জুড়ে পানি ধরে রাখতে বিলের খনন এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এ জন্য প্রশাসনের সহায়তাসহ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। বর্ষাকালে এই বিলকে ঘিরে পর্যটকদের আনাগোনা মুখরিত করে তোলে। এ জন্য তিনি বিলে জলপদ্ম-স্থলপদ্ধসহ বিভিন্ন বৃক্ষরোপন করেছেন। 

হিল্লোল চেয়ারম্যান আরো বলেন, রৌমারী বিলেই আমার প্রায় দুই শত বিঘা পৈত্রিক জমি আছে। সিলেটের সুনামগঞ্জের শিমুল বাগানের আদলে রৌমারী বিল এবং এই বিলের তীরবর্তী মুক্তি সংগ্রাম যাদুঘরকে ঘিরে শিমুল এবং কৃষ্ণচূড়া বাগানের কাজ চলমান আছে। এ ছাড়াও দৃষ্টি নন্দন জল ও স্থল পদ্ম’র পৃথক বাগানেরও কাজ চলছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে