স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী-শাশুড়ি পলাতক

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী-শাশুড়ি পলাতক

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বকশিরচর গ্রামের উঁচাপোল এলাকায় সাথী আক্তার (২৩) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামী নাঈম মৃধা ও শাশুড়ি ফাতেমা বেগমকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বকশিরচর গ্রামের নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সাথীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, নিহত সাথী আক্তার বরিশালের মুখার্জির পুল এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে বাবুগঞ্জের বকশির চর এলাকার শাহ আলম মৃধার ছেলে নাইম মৃধার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে সাথীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ আসার পরই বাড়ি থেকে স্বামী নাঈম ও শাশুড়ি ফাতেমা বেগম পালিয়ে যায়। 

সাথীর স্বজনরা জানান , খবর পেয়ে তারা বাড়িতে গেলে মরদেহ দেখতে বাধা দেওয়া হয়। নিহতের মা অভিযোগ করে বলেন , তার মেয়েকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

নিহতের মা বলেন, আমার মেয়েকে মেরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনা রাতে হলেও সকালে পাশের এক ব্যাক্তির ফোন পেয়ে আমরা খবর পাই। সেখানে গেলে আমার মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে বাঁধা দেওয়া হয়।  ১৫ দিন আগেও টাকার জন্য আমার মেয়েকে মারধর করা হয়েছিল। তখন আমরা গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছিলাম। আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। তবে সাথী আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এয়ারপোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাইম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। 

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন,  মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর  প্রকৃত কারন জানা যাবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে