পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে চাঁদপুর জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর, ২০২৬) বিকেলে চাঁদপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান রাজপথ প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের সময় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত হয়ে ওঠে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর -৩ আসনের সংসদ সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন- "তারেক রহমান বলেছেন- 'আজকের এই সমাবেশ ষড়যন্ত্রের দুরভিসন্ধিকে প্রতিরোধ করার সমাবেশ।' আমরা চাঁদপুরে গত ১৭ বছর এই সহকর্মীদের সাথে নিয়ে চাঁদপুরবাসীকে সঙ্গে করে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। আজকে কেউ কেউ লং মার্চের নামে বক্তব্য দিয়ে এক বনে এক বাঘ সাজে! বক্তব্য দিয়ে বলে কি- আঙ্গুল দেখিয়ে আমাদেরকে বলে, 'এক দফা'! স্বঘোষিত নানার জন্ম হয়েছে এখন বাংলাদেশে! এই বাংলাদেশে কোনো স্বঘোষিত নানার জায়গা হবে না! এই বাংলাদেশে কোনো নিষিদ্ধ ঘোষিত নেতাকর্মীর জায়গা হবে না!
যারা আমাদের এই চাঁদপুরে আরামে ঘুমায় আর নিষিদ্ধ ঘোষিত অঙ্গ সংগঠনের নামে মিছিল করে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করে। এখনো আমরা আপনাদের ব্যাপারে কোনো ধরনের ডিসিশন নেই নাই। যারা এই কাজে লিপ্ত হবেন, এই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের যারা এই কাজে উসকানিদাতা থাকবেন এবং আমাদের দলীয় কেউ যদি তাদেরকে সহযোগিতা করেন- সবাই সমানভাবে দোষী সাব্যস্ত হবেন।
আপনাদের কাছে অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পাড়া-মহল্লাতে এই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন এবং যারা স্বঘোষিত নানা দাবি করে, তাদেরকে প্রতিরোধ করার জন্য যা যা প্রয়োজন তা তা করা হবে। জনগণকে নিয়ে আমরা প্রতিরোধ করব। তারেক রহমান জনগণের প্রধানমন্ত্রী!
এক দফা এক দাবি- আমাদের স্লোগান ছিল। আমরা বলতাম- 'এক দফা এক দাবি, শেখ হাসিনা কবে যাবি?' আপনারা চান্দুরা কোথায় ছিলেন ১৭ বছর? বিল্ডিংয়ের ছাদের উপর থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ৩ তারিখ আর ৪ তারিখ জুলাই মাসে কই ছিলেন। আমাদের ১৭ বছরের মতো রাজনীতি করতে হবে। আমরা কিন্তু কচি খোক না! আমরা কি বুঝি না? নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের লগে মিল করে আপনারা এক দফা এক দাবির ঘোষণা দিচ্ছেন! বাংলাদেশের জনগণ এত চুদু না।
একটি নিরপেক্ষ জরিপে বলেছে, বিএনপির পপুলারিটি ৫২% এই মুহূর্তে। প্রধানমন্ত্রীর ৬৫%! প্রধানমন্ত্রীর পপুলারিটি আর বিএনপির পপুলারিটি একই। আমরা প্রধানমন্ত্রীর... আমাদের প্রিয় নেতা, উনার পপুলারিটি রক্ষা করতে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে যা যা করা দরকার, আমরা তাই করব। সবাই চোখ-কান খোলা রাখবেন। মাদকের ব্যাপারে কোনো রকমের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ইভটিজিংয়ের ব্যাপারে কোনো রকমের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজদের ব্যাপারে কোনো রকমের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কোনো রকমের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।"
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট একেএম. সলিম উল্যা সেলিম ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ মাঝি, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শাহজাহান কবির খোকা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন, যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল আলম সূর্য, সদর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মান্নান খান কাজল, আবু হানিফ কাকন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সফিউদ্দিন উদ্দিন বাবলু, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন পাটোয়ারী, সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান সোহাগসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের শত শত নেতাকর্মী।