প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিসিক-লাফার্জহোলসিমের যৌথ সেমিনার

এফএনএস (এইচ এম শহিদুল ইসলাম; সিলেট) : | প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিসিক-লাফার্জহোলসিমের যৌথ সেমিনার

সিলেটকে দেশের প্রথম প্লাস্টিক দূষণমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কাজ করছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা জিওসাইকেল। এ লক্ষ্যে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও আধুনিকায়ন এবং প্লাস্টিক বর্জ্য পৃথকীকরণে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

‘জিওসাইকেল সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলের হলরুমে আয়োজিত ‘এ রোডম্যাপ টু বিকাম এ প্লাস্টিক পলিউশন ফ্রি সিটি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ও সিলেট সিটি করপোরেশন যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, নারী উদ্যোক্তা শামা হক চৌধুরী, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর সিলেটের উপমহাপরিদর্শক শিপন চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী ও তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সেমিনারের শুরুতে জিওসাইকেলের কার্যক্রম নিয়ে অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা করা হয়। পরে সিলেট নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিয়ে উপস্থাপনা করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন। জিওসাইকেলের পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির হেড অব জিওসাইকেল লতিফুর রহমান।

সেমিনারে নগরীর লালমাটিয়া ডাম্পিং গ্রাউন্ডে স্থাপিত ম্যাটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি (এমআরএফ)-এর কার্যক্রম ও অগ্রগতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সিটি করপোরেশন ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ২০২৪ সালে যৌথভাবে প্লাস্টিক পৃথকীকরণের জন্য এই স্থাপনা গড়ে তোলে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এটি সিলেটের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্কুলার ইকোনমি কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

এমআরএফে অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্য আলাদা করার পর তা নিরাপদ কো-প্রসেসিংয়ের জন্য লাফার্জহোলসিমের ছাতকভিত্তিক জিওসাইকেল প্ল্যান্টে পাঠানো হয়। এর ফলে এসব বর্জ্য ল্যান্ডফিল বা নদীতে যাওয়ার ঝুঁকি কমছে বলে সেমিনারে জানানো হয়।

সেমিনারে আরও জানানো হয়, এমআরএফের বর্তমান কার্যক্রমের ভিত্তিতে সিলেট সিটি করপোরেশন ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ একটি বায়ো-ড্রাইং প্রকল্প নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে পৌর কঠিন বর্জ্যের আর্দ্রতা কমিয়ে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন উপাদান আরও কার্যকরভাবে পৃথক করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেটকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত করতে স্থানীয় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক অংশগ্রহণ এবং আইনি কাঠামোর যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। কৌশলগত অংশীদারিত্ব, আধুনিক অবকাঠামো ও ধারাবাহিক জনসচেতনতার মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত শহর গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, জিওসাইকেলের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। সিলেট সিটি করপোরেশনের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিরাপদ কো-প্রসেসিং সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে প্লাস্টিক বর্জ্য ল্যান্ডফিল ও নদীতে যাওয়া থেকে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। সিলেটকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দেশের একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এমআরএফসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই স্থাপনা আধুনিকায়নের মাধ্যমে নগরীর প্লাস্টিক দূষণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

সেমিনারের মাধ্যমে সিলেট নগরীতে সার্কুলার ইকোনমি ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে সিটি করপোরেশন ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে