ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম এ ঘোষণা দেন। তবে ছয়জনের মধ্যে বিএনপির দুই নেতা মির্জা ফয়সল আমিন ও ওবায়দুল্লাহ মাসুদের মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় দলটির চূড়ান্ত প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা এখনো স্পষ্ট হয়নি।
বৈধ ছয় প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির জেলা সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। এ ছাড়া ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডেলোয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলিম নিজামী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক রয়েছেন।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেন। বিএনপির দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, সাধারণত একটি আসনে একটি রাজনৈতিক দল একজন প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়। কিন্তু ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির দুই নেতাই দলীয় পরিচয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং যাচাই-বাছাইয়ে দুজনের কাগজপত্রই বৈধ হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, চূড়ান্তভাবে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলীয়ভাবে জানানো হবে। এরপর নির্বাচন কমিশনে দলের চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা পাঠানো হবে। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থী নিয়ে অপেক্ষা থাকছে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ৬ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৭ অক্টোবর। পরদিন ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক বরাদ্দের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে এবং ২৭ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত প্রচার চালানো যাবে।
আগামী ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ঠাকুরগাঁও সদর, নতুন গঠিত রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। ভোটগ্রহণের জন্য ১৮৫টি কেন্দ্র ও ৯৮৯টি বুথ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হওয়ার পর এ উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এর আগে আসনটির সংসদ সদস্য ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে এরই মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর দলটি মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করে। মির্জা ফয়সল আমিন, সুলতানুল ফেরদৌস নামরা চৌধুরী ও ওবায়দুল্লাহ মাসুদ দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। পরে মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তের পর মির্জা ফয়সল আমিনের নাম সামনে এলেও মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে ওবায়দুল্লাহ মাসুদও প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মির্জা ফয়সল আমিন বিএনপির জেলা সভাপতি এবং রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই। অন্যদিকে ওবায়দুল্লাহ মাসুদ জেলা বিএনপির সহসভাপতি। এখন দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, শেষ পর্যন্ত কে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে থাকবেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডেলোয়ার হোসেন এর আগেও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। এবারের উপনির্বাচনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রাথমিক চিত্র এখন স্পষ্ট হয়েছে। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দের পরই নির্বাচনের চূড়ান্ত মাঠপর্যায়ের সমীকরণ পরিষ্কার হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।