একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন
ছবি: সংগ্রহীত

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা, নদীভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ও গ্রামীণ অবকাঠামো, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মতো বিভিন্ন খাতের প্রকল্প।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। এর আগে এদিন সকাল ১০টায় সচিবালয়ে একনেকের সভা শুরু হওয়ার তথ্যও জানানো হয়েছিল।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। প্রকল্প ঋণ থেকে আসবে ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। আর সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে আটটি নতুন, তিনটি সংশোধিত এবং দুটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অংশ নেন।

এ ছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর একটি হলো ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট অ্যাগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’। অন্যটি ‘পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, পটুয়াখালী (১ম সংশোধিত)’।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় রয়েছে চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামের রৌফাবাদে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠানের হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প। আরেকটি প্রকল্পের আওতায় মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি করপোরেশন, ১টি পৌরসভা এবং ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন’ প্রকল্পটি দ্বিতীয় সংশোধিত হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পও রয়েছে অনুমোদনের তালিকায়। এগুলো হলো রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ এবং মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের তৃতীয় সংশোধন’ অনুমোদন পেয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘র‍্যাবের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পটিও দ্বিতীয় সংশোধিত হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ফেনীর সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ এবং তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প।

৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ১৫ প্রকল্প
একনেক সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর নিজস্ব ক্ষমতাবলে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত আরও ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও সভাকে অবহিত করা হয়।

এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নির্ঝর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বিদ্যমান তিনতলা ভবনের ওপর চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ। রয়েছে বিমান বাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলায় বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামো নির্মাণ এবং আলীকদম সেনানিবাসে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়ন, ১০ জেলায় বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন, রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মিরপুর ইউসেপ শ্রম ও কর্মসংস্থান ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রকল্প রয়েছে।

তালিকায় ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প, কুড়িগ্রামের সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলায় ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও দুই তীর সংরক্ষণ, হবিগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীর প্রতিরক্ষা এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সড়ক ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক উন্নয়নের প্রকল্পও রয়েছে।

আরও রয়েছে সারা দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ, দেশের ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, ভূয়াপুর-তারাকান্দি জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ ও নিরাপদ স্যানিটেশন প্রকল্প।

সব মিলিয়ে মঙ্গলবারের একনেক সভায় বড় অবকাঠামো থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, পানি, বিদ্যুৎ, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা অবকাঠামোর বিভিন্ন উদ্যোগে অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে