এবার উয়েফার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললো ফিফা

এফএনএস স্পোর্টস | প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
এবার উয়েফার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললো ফিফা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে চলমান বিতর্কে নতুন করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে ফুটবলের দুই শীর্ষ সংস্থা ফিফা ও উয়েফা। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি আদালতে উয়েফার করা আবেদনের জবাবে ফিফা অভিযোগ করেছে, উয়েফা ‘হয়রানির উদ্দেশ্যে’ এবং বৈধ প্রমাণ সংগ্রহের প্রয়োজন ছাড়াই ওই আবেদন করেছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির বিরুদ্ধে ‘অপতথ্য ছড়ানোর প্রচারণা’ চালানোর অভিযোগও তুলেছে ফিফা।


দক্ষিণ ফ্লোরিডার যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতে জমা দেওয়া নথিতে ফিফা জানিয়েছে, ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্প নিয়ে উয়েফার করা আবেদনটি ‘অসৎ উদ্দেশ্যে’ করা হয়েছে। ফিফার দাবি, এই আবেদনের পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রমাণ সংগ্রহ নয়; বরং হয়রানি করা এবং ফিফা সভাপতির নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা।


ফিফার দাবি, উয়েফা গণমাধ্যমে বিভিন্ন ‘মিথ্যা তথ্য’ ছড়িয়েছে। এর মধ্যে ফিফা বিভিন্ন টুর্নামেন্ট বিক্রি করছে- এমন বক্তব্যও রয়েছে বলে আদালতে জমা দেওয়া নথিতে উল্লেখ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফিফার ভাষ্য, এসব প্রচারের মাধ্যমে উয়েফা নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।


আদালতে জমা দেওয়া নথিতে ফিফা বলেছে, এ ধরনের যুক্তিকে ভিত্তি করে ফিফা সভাপতির নির্বাচনকে প্রভাবিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা আদালতের প্রত্যাখ্যান করা উচিত।


এফএফই প্রকল্পে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ ছিল- উয়েফার এমন দাবিও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ফিফা। ফিফার দাবি, এফএফই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশন ও ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। ফলে ইনফান্তিনো ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়েছিলেন- উয়েফার এমন ইঙ্গিতকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ফিফা।


আদালতে দেওয়া নথিতে ফিফা আরও বলেছে, ইনফান্তিনো কোনো আইন বা নৈতিক নীতি লঙ্ঘন করেছেন- উয়েফার এমন ইঙ্গিতও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ফিফার বক্তব্য অনুযায়ী, এফএফইর মতো একটি প্রকল্প মূল্যায়ন না করাই বরং দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারত। কারণ খেলাধুলা ও বিনোদন খাতে এ ধরনের ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে।


ফিফা আরও দাবি করেছে, উয়েফার সংবাদমাধ্যমকেন্দ্রিক প্রচারণা এবং আদালতে আবেদনের সময় গোপনীয়তার আবেদন না করাসহ বিভিন্ন বিষয় প্রমাণ করে যে এটি হয়রানির উদ্দেশ্যে করা আবেদন। তাই শুধু এই কারণেই আদালতের আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করা উচিত বলে মনে করছে ফিফা।


ফিফা-উয়েফা বিরোধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এফএফই প্রকল্পের মূল্যায়ন। ফিফার দাবি, উয়েফা ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা তথ্যের অভাবে ‘ইকুইটি ভ্যালু’ এবং ‘এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু’কে গুলিয়ে ফেলেছে। উয়েফার বক্তব্য ছিল, এফএফইর ন্যায্য মূল্য ৩০ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়া উচিত ছিল।


পাশাপাশি ২০ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়ন কোনো স্বাভাবিক বাণিজ্যিক লেনদেনের প্রতিফলন ছিল না এবং এর পেছনে একটি ‘অবৈধ ও অস্বচ্ছ চুক্তি’ ছিল বলেও উয়েফা দাবি করেছে। ফিফা অবশ্য এসব অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে।


আদালতে দেওয়া নথিতে ফিফা জানিয়েছে, এফএফইর ২০ বিলিয়ন ডলারের ইকুইটি ভ্যালুর পাশাপাশি ফুটবল উন্নয়নে আরও ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের জন্য সুরক্ষিত দায়বদ্ধতা ছিল। এর বাইরে ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে দেওয়া অর্থ এবং ফিফার বাণিজ্যিক নয় এমন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত নিয়মিত খরচও ছিল।


ফিফার বক্তব্য, এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে এফএফইর এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু ইকুইটি ভ্যালুর দ্বিগুণেরও বেশি ছিল। ফলে উয়েফা যে মূল্যকে ন্যায্য বলে বিবেচনা করছে, প্রকৃত এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু তার চেয়ে অনেক বেশি।


ফিফা আরও অভিযোগ করেছে, উয়েফা যদি গণমাধ্যমে প্রকল্পটির সমালোচনা করার আগে অথবা ফেডারেল আদালতে আবেদন করার আগে নিজেদের দাবিগুলো যাচাই করত, তাহলে এসব তথ্য তাদের জানা থাকত।


ফিফা-উয়েফার বিরোধের সঙ্গে আসন্ন ফিফা সভাপতি নির্বাচনও আলোচনায় এসেছে। ফিফা সভাপতির নির্বাচনের প্রার্থিতা জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৮ মার্চ মরক্কোর রাজধানী রাবাতে।


ফিফার নথিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ঠিক এমন সময়ে কেন উয়েফা ফ্লোরিডার আদালতে আবেদন করল এবং কেন ইনফান্তিনোকে নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ ছড়ানো হচ্ছে। এ কারণে ফিফা আবারও আদালতের কাছে অনুরোধ করেছে, ফিফা সভাপতির নির্বাচনকে প্রভাবিত করার যে কোনো প্রচেষ্টা যেন প্রত্যাখ্যান করা হয়।