গাবতলীতে ইজিবাইক থামিয়ে গৃহবধূকে মারধর, শ্লীলতাহানির অভিযোগ

এফএনএস ( মো: রাজিবুল ইসলাম রক্তিম; বগুড়া) : | প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:০২ পিএম
গাবতলীতে ইজিবাইক থামিয়ে গৃহবধূকে মারধর, শ্লীলতাহানির অভিযোগ

বগুড়ার গাবতলীতে ইজিবাইকের পথরোধ করে এক গৃহবধূকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রিয়া মনি (২৩) নামের ওই গৃহবধূ গাবতলী মডেল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। এজাহারে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন গাবতলী উপজেলার বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের দুলু ফকিরের পুত্র রাকিবুল হাসান শাকিল (২৬), খোরশেদ আলম মেম্বারের পুত্র  রকি মিয়া (২৭), মোফাজ্জল মন্ডলের পুত্র জিহাদ (২৪), রফিকুল ইসলামের পুত্র ইমরান ইসলাম (২২) ও বেলাল ফকিরের পুত্র আলামিন (২৪)।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, রিয়া মনি বগুড়া সদর উপজেলার নাটাইপাড়ায় স্বামী পল্লবের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। গত (২৭ সেপ্টেম্বর) তিনি তাঁর প্রথম স্বামীর ঘরের সাত বছর বয়সী মেয়ে প্রিয়া মনিকে নিয়ে গাবতলী থানার চাকলা গ্রামে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। দিনভর সেখানে অবস্থানের পর মেয়েকে মায়ের কাছে রেখে বিকেলে একা বের হন তিনি। রিয়ার অভিযোগ, চাকলা থেকে ভ্যানে করে গাবতলী বাজারে যান। পরে একটি সিএনজি অটোরিকশায় সাবগ্রামে পৌঁছান। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন খারাপ থাকায় সাবগ্রাম থেকে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে ঘুরতে ঘুরতে গাবতলী উপজেলার বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের তরনীহাট-কাইনচাগাড়ি ব্রিজের প্রায় ২০ গজ পূর্ব পাশে পাকা সড়কে যান। তখন সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টা। ওই সময় পাঁচ যুবক সেখানে গিয়ে তাঁর নাম-পরিচয় ও ঠিকানা জানতে চান এবং বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ইজিবাইক নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁরা দলবদ্ধ হয়ে ইজিবাইকের পথরোধ করেন এবং তাঁকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে ইজিবাইকচালক তাঁদের কথাবার্তার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা চালকের ওপর চড়াও হয়ে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন রিয়া। চালককে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও বেদনাদায়ক জখম হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাঁর পরনের কাপড় এলোমেলো করে শ্লীলতাহানি করেন। তিনি চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকতে শুরু করলে অভিযুক্তরা মামলা না করার জন্য তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বলেন।

পরে রিয়া ভাড়া করা ইজিবাইকযোগে দ্রুত তাঁর ভাড়া বাসায় ফিরে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। রাতে তার স্বামী পল্লব বাসায় ফিরলে তাঁকে ঘটনাটি বিস্তারিত জানান। পাশাপাশি মোবাইল ফোনে তাঁর দাদী কমেলা বেগমসহ নিকটজনদের বিষয়টি অবহিত করেন।

পরে রিয়া ও তাঁর স্বামী ঘটনাস্থলের আশপাশে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় গিয়ে এজাহার দায়ের করেন। এই বিষয়ে গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রাকিব হাসান জানান, এজাহারের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করার হয় এবং মামলার রুজু করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে