গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুল হক।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় টিকাদান ক্যাম্পেইনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ এ. কে. এম. আতিকুর রহমান। এসময় অন্যান্যের মাঝে কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এফ এম কামাল হোসেন, উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এস এম বেলায়েত হোসেন সহ সংশ্লিষ্ট ভ্যাকসিনেটররা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী ছাগল ও ভেরার পিপিআর রোগের তৃতীয় পর্যায়ে ফ্রি টিকাদান ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিটি ইউনিয়নে চতুর্থ ডোজ টিকা প্রদান করা হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩০ হাজার ডোজ টিকা প্রদান করা হবে।
উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ সুজন হাসান, উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এস এম বেলায়েত হোসেন, মোঃ রাজীবুর রহমান ও ভিএফএ কাজী রাজীবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টিকাদান ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের সার্বক্ষণিক তদারকি করবেন।
বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর (PPR) রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো সঠিক নিয়মে ভ্যাকসিন বা টিকা প্রদান করা। ছাগলের বয়স ৩ থেকে ৪ মাস বা তার বেশি হলে প্রথম পিপিআর টিকা দিতে হয়। তবে ঝুঁকি বেশি থাকলে ২ মাস বয়সেও প্রাথমিক টিকা দেওয়া যায়, সেক্ষেত্রে ৬ মাস পর আরেকটি বুস্টার ডোজ দিতে হবে। প্রতিটি ছাগলকে ১ মিলি (mL) করে ভ্যাকসিন দিতে হবে। চামড়ার নিচে (Subcutaneous) সাধারণত ঘাড়ের পাশে বা কাঁধের পেছনের নরম চামড়ায় এই ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। একবার টিকা দিলে সাধারণত ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে। তবে খামারের সুরক্ষায় পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রতি ১ বছর পর পর বা নিয়মমাফিক বুস্টার ডোজ দেওয়া ভালো। বাংলাদেশের প্রতিটি Official Courier Locator উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে সরকারিভাবে পিপিআর রোগের টিকা সরবরাহ করা হয়। প্রায়শই সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে বিনামূল্যে দেশব্যাপী পিপিআর টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। খামারিরা নিজ এলাকার উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস বা নিবন্ধিত পশু চিকিৎসকের মাধ্যমে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে এই টিকা সংগ্রহ ও প্রয়োগ করতে পারেন।
পিপিআর রোগে আক্রান্ত ছাগলকে বা আক্রান্ত ছাগলের সংস্পর্শে আসা অসুস্থ ছাগলকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র সুস্থ ছাগলকেই টিকা দিতে হবে। ভ্যাকসিন সবসময় ঠান্ডা বা ফ্রিজে (২°-৮° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়) কুল বক্স বা বরফযুক্ত ফ্লাক্সে রেখে বহন ও সংরক্ষণ করতে হয়। খামারে নতুন কোনো ছাগল আনলে তাকে অন্তত ১০ থেকে ১৪ দিন আলাদা রেখে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং রোগমুক্ত নিশ্চিত হওয়ার পর টিকা দিতে হবে।
ছাগলগুলোর বর্তমান বয়স কত এবং এর আগে কি কোনো পিপিআর টিকা দেওয়া হয়েছে ? তা জানালে পরবর্তী ডোজ সম্পর্কে জেনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর নির্দিষ্ট পরামর্শ দিবেন। ছাগলের পিপিআর রোগ - কারণ, লক্ষন, প্রতিকার, প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ছাগলের পিপিআর ভ্যাকসিনের দাম মাত্র ৫০ টাকা। তবে এই মূল্য যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে।
পিপিআর রোগের প্রতিরোধের সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হলো ছাগল এবং ভেড়াকে নিয়মিত টিকা প্রদান করা। নতুন ছাগল খামারে আনলে ১০ দিন পর অবশ্যই পিপিআর টিকা দিতে হবে। ব্যবহৃত ভায়াল ও অবশিষ্ট ভ্যাকসিন সঠিকভাবে নষ্ট করতে হবে। ছাগল ও ভেড়ার বিনা মূল্যে পিপিআর টিকা প্রদান কার্যক্রম চলমান |