ময়মনসিংহে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কার্যালয়ে বসেই ঘুষ দাবির অভিযোগ

এফএনএস (রকিবুল হাসান চৌধুরী রুবেল, ময়মনসিংহ) : | প্রকাশ: ১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ময়মনসিংহে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কার্যালয়ে বসেই ঘুষ দাবির অভিযোগ

নিজের কার্যালয়ে  বসেই ময়মনসিংহের এক প্রকৌশলী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে ঘুষ দাবি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত প্রকৌশলীর নাম আতিকুর রহমান। তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী -২ (সিভিল) হিসাবে কর্মরত। বৃহস্পতিবার  (১ অক্টোবর) বেলা বারোটার দিকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম এসটি এইচই (জেবি)। এ প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম ও সুপারভাইজার শরাফত আলী সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে তারা জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসটি এইচই ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কিল্লা বোকাইনগর ফাজিল মাদরাসার চার তলা ভবন নির্মাণের কাজ পায়। ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার এ কাজটি সম্পন্ন করার মেয়াদ ছিল তিন বছর। যথা সময়েই কাজটি শেষ করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কিল্লা বোকাইনগর ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ছায়ীদুল হক যথা সময়ে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি নবনির্মিত ভবনটি বুঝে পেয়েছেন উল্লেখ করে প্রত্যায়ন দেন। ছায়ীদুল হক বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মোবাইল ফোনে জানান, কাজটি যথা সময়েই শেষ হয়েছে এবং ভবনটি আমরা বুঝে পেয়েছি।

সরকারি নিময় অনুযায়ী কাজ চললাম থাকার সময় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ১০ শতাংশ বিল জমানত হিসাবে জমা থাকে। কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সে ১০ শতাংশ বিল পরিশোধ করে। সে হিসাবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ লাখ টাকা জমা ছিল ময়মনসিংহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে। বৃহস্পতিবার বেলা বারোটার দিকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মফিজুল ও সুপারভাইজার শরাফত ময়মনসিংহের শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমানের কাছে যান জমানতের ওই টাকা আনতে। ওই সময় আতিকুর রহমান জামানতের টাকা ফেরত দেওয়ার আগে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে আতিকুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও তিনি এ টাকা না নিয়ে ৫ লাখ টাকাই দিতে বলে জানান। পরবর্তীতে মফিজুল ও শরাফত টাকার চেক না নিয়েই ফিরে যান।

এ বিষয়ে মফিজুল আরও বলেন, ৫ লাখ টাকা দাবি করলে আমি প্রতিষ্ঠানের মালিক হাফেজ মোহাম্মদ আজিজুল হককে জানাই। তিনি ৫০ হাজার টাকা দিতে বলেন। পরে আমি ৫০ হাজার টাকা দিতে চাইলে প্রকৌশলী আতিকুর সে টানা নেননি।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসটি এইচই’র সত্বাধিকারী হাফেজ মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, প্রায় ৩০ লাখ আটকে ছিল। যে কারনে  অবৈধ ভাবেই ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হই। কিন্তু প্রকৌশলী আতিকুর রহমান সেটা নেননি। পরে আমি সরকারি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ফোনে বিষয়টি অবহিত করেছি।

প্রকৌশলী আতিকুর রহমান নিজের উপর আনা এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করে বলেন, কিল্লা বোকাইনগর ফাজিল মাদরাসার চার তলা ভবনটি আমরা প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দিলেও এখানে কাজের ত্রুটি পাওয়া গেছে। যে কারনে জমা থাকা ১০ শতাংশ বিল দেইনি।