বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল মিটিং করেছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের সাথে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টা থেকে ২টা পর্যন্ত তিনি মোবাইলে এক ভার্চুয়াল জুম মিটিংয়ে যুক্ত হয়ে তিনি ঝিনাইদহ-৪ আসনের ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৫৮ জন নেতা কর্মীদের সাথে। মিটিং এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা উপজেলা আ'’লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের মৃত্যুতে তার খালী পদটিতে কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম আরা মান্নানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন। শামিম আরা মান্নান আ’লীগের সাবেক এমপি ও উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম আব্দুল মান্নানের সহধর্মিনী। এদিকে পলাতক অবস্থায় শেখ হাসিনা ভারতে বসে কালীগঞ্জের আ'লীগ নেতাদের সাথে ভার্চুয়াল জুম মিটিং করা নিয়ে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিষিদ্ধ আ’লীগের নেতাকর্মীরা জানায়, হঠাৎ করেই বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ভার্চূয়াল জুম মিটিং করেন। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের খোজ খবর ও সুবিধা অসুবিধার কথা শোনেন। প্রায় দুই ঘন্টার উপরে চলা ওই জুম মিটিংয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের শীর্ষ পষায়ের ৫৮জন নেতাকর্মী অংশ নিয়েছিলেন। মিটিংয়ের মাধ্যমেই তিনি উপজেলা আ’লীগের সভাপতির পদ শূন্য থাকায় সিনিয়র সহ-সভাপতিকে শামিম আরা মান্নানকে সভাপতি হিসাবে দ্বায়িত্ব নিয়ে দল গোছানোর নির্দ্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ‘বঙ্গবন্ধু মঞ্চ’ নামের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে। এতে কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ছাড়াও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা, ঘোড়শাল, মহারাজপুর ও ফুরসন্ধি ইউনিয়নের নেতাকর্মী এবং কালীগঞ্জ পৌরসভার নেতাকর্মীরা পর্যায়ক্রমে অংশ নেন।শেখ হাসিনার সাথে জুম মিটিং করার বিষয়টি জানতে নিষিদ্ধ দল কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আয়ুব হোসেন ছাড়াও শীর্ষ কয়েকজন নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা ও ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, শেখ হাসিনা জুম মিটিং করেছেন এমনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোষ্টে দেখেছেন। তবে, কখন কোথায় বসে বা মিটিংটি করা হয়েছে কিনা এমনটি জানা যায়নি। পুলিশ এ বিষয়ে খোজ খবর নিচ্ছেন। এবং করনীয় বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান তিনি।এক নেতা জানান, বৈঠকে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ৩ জন করে প্রতিটি ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন।‘বঙ্গবন্ধু মঞ্চ’ নামের টেলিগ্রাম গ্রুপে তিন ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে মোট ৬০ জনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে দুজন অনুপস্থিত থাকায় ৫৮ জন অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছে। বৈঠকটি চারজন মডারেটর পরিচালনা করেন।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রিগান, মোস্তাক আহমেদ লাভলু ও আলাল হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ওই অনলাইন বৈঠকের খবর ফেসবুকে শেয়ার করেন। এরপর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বলে জানা গেছে।তবে বৈঠকের বিষয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক জুম বৈঠক বা গোপন সমাবেশের তথ্য পুলিশের জানা নেই।