মুলাদীর চরকালেখান ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দশ প্রার্থীর প্রচারনা

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
মুলাদীর চরকালেখান ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দশ প্রার্থীর প্রচারনা

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান, সাধারণ ওয়ার্ড এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, স্বতন্ত্র ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একাধিক প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন। ফলে ক্রমেই নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পরেছে নদীবেষ্টিত বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে দশজন সম্ভ্রাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণার চালিয়ে প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার মধ্যেই সর্বস্তরের ভোটাররা সৎ ও যোগ্য প্রার্থী বেঁছে নিতে করছেন বিচার বিশ্লেষণ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইতোমধ্যে বিএনপির একাধিক প্রার্থী নিজেদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দ্বিধাবিভক্তিতে পরেছেন। কারণ এ ইউনিয়নে দীর্ঘদিন থেকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সৎ, যোগ্য, শিক্ষিত ও পরপোকারী সমাজ সেবক ও সাংবাদিক মো. নুরুল হক খান। বিএনপির একাধিক প্রার্থীতে যখন দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দ্বিধাবিভক্তিতে পরেছেন, ঠিক সেই সময় কেউ প্রকাশ্যে ও কেউ গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার একনিষ্ট সমর্থকদের সাথে। ফলে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন দীর্ঘদিন বছর থেকে নদী ভাঙনরোধে এবং মাদকের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে কাজ করে আসা স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল হক খান।

জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থনকে সাথে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন চরকালেখা ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নুরুল হক খান। স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে নুরুল হক খান দীর্ঘদিন থেকে মানুষের পাশে রয়েছেন। সাংবাদিক মো. নুরুল হক খান চরকালেখান ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মরহুম আব্দুল লতিফ খানের মেঝ ছেলে।

একান্ত আলাপকালে নুরুল হক খান বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আমি সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। আমি চরকালেখা ইউনিয়নের জনগণের মাঝেই বেঁচে থাকতে চাই। জনগণই আমার মূল শক্তি। তিনি আরও বলেন, আমি একটি মাদকমুক্ত চরকালেখান ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই। মাদকের বিরুদ্ধে আমি সবসময় সোচ্চার। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করাই হচ্ছে আমার অঙ্গীকার।

নুরুল হক খান বলেন, আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হলে ইউনিয়ন পরিষদকে আরও সুশৃঙ্খল, জনবান্ধব ও জনগনের আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবো। পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি জনগণের মাঝে একটি বার্তা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই-আমরা একটি সুশৃঙ্খল ও আদর্শ ইউনিয়ন পরিষদ চাই। তিনি বলেন, জনগনের মৌলিক অধিকার বুঝিয়ে দেয়া, এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করা, শিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক অবক্ষয়রোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করাই হচ্ছে আমার অঙ্গিকার। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নুরুল হক খান চরকালেখান ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা চেয়ে বলেছেন, জনগণের ভালোবাসা, সমর্থন ও দোয়া সাথে নিয়ে চরকালেখান ইউনিয়নের মানুষের কল্যাণে আমি আমৃত্যু কাজ করে যেতে চাই।

সূত্রমতে, এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন-ইকবাল হোসেন রাশেদ খান, আসাদুজ্জামান মালেক সরদার ও আবদুর রব আকন।

সম্ভ্রাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল হোসেন রাশেদ খান বলেন, আমাদের পরিবারটিই একটি রাজনৈতিক পরিবার আমার দুই চাচা এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তাই আমাদের পরিবারের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা রয়েছে সেখান থেকেই আমি প্রার্থী হয়েছি। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ মুক্ত একটি নিরাপদ চরকালেখান ইউনিয়ন গড়ে তোলাই তার নির্বাচনী অঙ্গীকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশী অপর সম্ভ্রাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক সরদার বলেন, বিগত দিনে যারা চেয়ারম্যান ছিলেন তারা জনগণের চেয়ে নিজেদের ব্যক্তি উন্নয়ন বেশি করেছেন। আমি প্রার্থী হয়েছি সততা এবং জবাবদিহিতার সাথে মানুষের সেবা করার লক্ষ্যে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বিএনপির রাজনীতি সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত আছি। আমি ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে ইউনিয়ন যুবদলের দুইবার সভাপতি ছিলাম। চরকালেখান ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব ছিলাম।বর্তমানে থানা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তাই আমি শতভাগ আশা করছি দল আমাকে মূলায়ন করবে। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে চরকালেখান ইউনিয়নের সকল নাগরিক সেবা স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার সাথে প্রধান করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সম্ভ্রাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রব আকন বলেন, বিগতদিন থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা ছিলো এবং করে আসছি। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে বর্তমানে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। সামাজিকভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত করবো। এছাড়াও আসন্ন চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভ্রাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন-বর্তমান চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন ধলু বেপারী ও মোশারফ হোসেন ঢালী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ইউনিয়নের সম্ভ্রাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজ সরদার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো. হুমায়ুন কবির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মালয়েশিয়া শাখার নেতা সালাউদ্দিন সোনা ও দুবাই প্রবাসী গিয়াস উদ্দিন খান।

সূত্রমতে, নির্বাচনের দিনক্ষন এখনও ঠিক না হলেও স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও বেশ আগ্রহ দেখা গেছে। চরকালেখা ইউনিয়নের ব্যবসায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, তরুন ও নারী ভোটাররা জানিয়েছেন, স্থানীয় নির্বাচনে যেসব প্রার্থী কিংবা তাদের সমর্থকেরা এলাকায় বেশি প্রভাব বিস্তার করতে চাইবে সেইসব প্রার্থীরা বিজয়ী হতে পারবেন না। তারা আরও বলেন, সাধারণ ভোটাররা চাচ্ছেন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। যেখানে থাকবেনা কোন মারামারি কিংবা হুমকি-ধামকির ঘটনা। এসব যারা করতে চাইবেন তাদের বিরুদ্ধে নিরব ভোটের মাধ্যমে জবাব দেয়া হবে।

সাধারণ ভোটাররা আরও জানিয়েছেন, মার্কা দেখে আর ভোট নয়; এবার সৎ, যোগ্য, শিক্ষিত ও বিনয়ী প্রার্থীর ওপরই দলমত নির্বিশেষে ভোটাররা আস্থা রাখতে শুরু করেছেন। তারা আরও বলেন, আমরা এমন একটি পরিবেশ চাই যেখানে ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে পারবেন। কোন ভোটার যেন বাঁধা বিপত্তির সম্মুখীন না হয়, তেমনই একটি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন যেন হয় এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে