জালে আটকে মৃত্যুর প্রহর গুনছিল অজগর এক ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার

এফএনএস (আতাউর রহমান কাজল; শ্রীমঙ্গল, মৌলভী বাজার) : | প্রকাশ: ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
জালে আটকে মৃত্যুর প্রহর গুনছিল অজগর এক ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার

জালের প্রতিটি ফাঁস যেন টেনে আনছিল মৃত্যুকে। রাতের আঁধারে মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে হাইল হাওরের রউয়া বিলে মৃত্যুর প্রহর গুনছিল একটি অজগর। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ছুটে যান বন্যপ্রাণীপ্রেমীরা। প্রায় এক ঘণ্টার প্রাণপণ চেষ্টায় অবশেষে জাল কেটে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অজগরটিকে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে শ্রীমঙ্গল হাইল হাওরের রউয়া বিলে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, রাতে মাছ ধরার একটি জালে অজগরটি আটকা পড়ে। সকালে বিষয়টি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল হক। তিনি দ্রুত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নৌকায় করে দুর্গম বিলের ওই স্থানে পৌঁছে তারা দেখতে পান, জালের ফাঁসে শক্তভাবে আটকে আছে অজগরটি। জাল থেকে সাপটিকে ছাড়াতে শুরু হয় সতর্ক অভিযান। অজগরটি যাতে আহত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রেখে ধীরে ধীরে জালের ফাঁস খুলতে থাকেন উদ্ধারকারীরা। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত মুক্ত হয় অজগরটি।

উদ্ধারকারীরা জানান, আরও কিছু সময় জালে আটকে থাকলে অজগরটির মৃত্যু ঘটতে পারত। দীর্ঘ সময় জালে আটকে থাকায় প্রাণীটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এই উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় রাজু মিয়ার সহযোগিতাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রাজু মিয়া নৌকা চালিয়ে উদ্ধারকারী দলকে বিলের দুর্গম ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। তার সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

উদ্ধারের পর অজগরটিকে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী  বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। শ্রীমঙ্গলের হাওর, বন ও জলাভূমি শুধু মানুষের জীবিকার ক্ষেত্র নয়; এগুলো অসংখ্য বন্যপ্রাণীরও নিরাপদ আবাসস্থল। মাছ ধরার জাল, ফাঁদ কিংবা মানুষের অসচেতনতার কারণে প্রায়ই এসব প্রাণী বিপদে পড়ে।

বন্যপ্রাণী জালে আটকা পড়লে বা আহত অবস্থায় পাওয়া গেলে নিজে ঝুঁকি নিয়ে সেটিকে ধরার চেষ্টা না করে দ্রুত বন্যপ্রাণী বিভাগ অথবা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, সময়মতো একটি খবরই কখনো কখনো একটি বন্যপ্রাণীর জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে