রাজশাহীর তানোরে জমিজমা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ছোটভাইয়ের বাঁশের খ্যাট্যার (বাঁশের লাঠি বা ফালি) আঘাতে বড়ভাইয়ের দুটি দাঁত ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বড়ভাইয়ের ছেলে শামীম উদ্দিন (৩১) বাদী হয়ে ৮ জন নামধারীকে আসামী করে বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর তানোর থানায় একটি লিখিত এহাজার দাখিল করেছেন।
এলাকাবাসী ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তানোর পৌরসভার গোকুল গ্রামের বাসিন্দা নইমুদ্দিন ও তার ছোটভাই জফিরসহ তাদের চার ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নইমুদ্দিনের বসত-বাড়ির উত্তর পার্শ্বে ভোগ-দখলীয় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে নীম গাছের ডাল কাটতে থাকে জফির মন্ডল ও অনুসারীরা। সেই সময় নীম গাছের ডাল কাটতে বাধা নিষেধ করা হলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরে এক পর্যায়ে জফিরসহ তার পক্ষের লোকজন নইমুদ্দিনের উপর হামলা করে। এতে দুটি দাঁত ভেঙে যায় তার।
এবিষয়ে নইমুদ্দিনের পুত্র এজাহার দাখিলকারী শামীম উদ্দিন বলেন, ঘটনার সময় আসামী জইমদ্দীন মন্ডলের হুকুমে জফির মন্ডল তার হাতে থাকা বাঁশের খ্যাট্যা দিয়ে আমার পিতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে স্বজোরে মাথা বরাবর আঘাত করে। এসময় আমার পিতা মাথা সরিয়ে নেয়। ফলে উক্ত আঘাতটি আমার পিতার মুখে লেগে নিচের পাটির সামনের দুইটি দাঁত ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে যায় ও গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
শামীম উদ্দিন তার এজাহারে উল্লেখ করেন, আমার ছোট মা মোসা. রোকেয়া পিতাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে গেলে মো. সুজন ছোট মাকে এলোপাথাড়িভাবে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও কালশিরা জখম করে। এছাড়াও আশিক রানা সজিব আমার ছোট মায়ের পরণের কাপড় চোপড় টানা হেঁচড়ায় বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি ঘটায়।
এসময় আমার পিতা ও ছোট মায়ের ডাক-চিৎকারে আমার প্রতিবন্ধী ভাই মো. আল-আমিন ঘটনাস্থলে এগিয়ে গেলে আশিক রানা সজিব নীম গাছের ডালদ্বারা এলোপাথাড়ি মারপিট করে। আমি আমার প্রতিবন্ধী ভাইকে রক্ষার করার জন্য এগিয়ে গেলে আসামী জইমদ্দীন মন্ডল ও চাম্পা বাঁশের লাঠি ও লোহার রডদ্বারা এলোপাথাড়ি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা, ছিলা ও কালশিরা জখম করে।
এনিয়ে জফির মন্ডল বলেন, এক নীম গাছের ডাল কাটা নিয়ে তাদের ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে উভয়ের মধ্যে মারামারি হয়। এতে আমার ভাতিজা সুজন ও আমার ভাবী রওশনারা আহত হয়। এঘটনায় আমার ভাতিজা আশিক রানা বাদী হয়ে থানায় মামলা করে। তবে, মারামারির সময় নইমুদ্দিনের মুখে আঘাত পেয়ে তার দাঁত নাকি ভেঙ্গে গেছে শুনেছি বলে এড়িয়ে গেছেন তিনি।
এব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহামুদল হাসান বলেন, একই পারিবারের মধ্যে জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্বে একপক্ষের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আরেক পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবসস্থা গ্রহণ করা হবে।