কুড়িগ্রামের রাজারহাট থানা পুলিশ জুয়া খেলার আসরে অভিযান চালিয়ে ৬জন জুয়ারিকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত তাস, নগদ ৩ হাজার ১২০ টাকা, বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি টর্চলাইট ও নীল রঙের প্লাস্টিকের পলিথিন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ জনসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টায় উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের চকনাককাটি মৌজায় একটি ইউক্যালিপটাস বাগানের ফাঁকা জায়গায় এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজারহাট থানার একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, জুয়া প্রতিরোধ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের দায়িত্বে থাকা পুলিশের একটি দল রাতে নাককাটিহাট এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ চকনাককাটি এলাকায় একটি বাগানের মধ্যে টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে টাকার বিনিময়ে তাসের মাধ্যমে জুয়া খেলায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ ৬ জন জুয়ারিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত তিন সেট তাসের ১৫৬টি কার্ড, নগদ ৩ হাজার ১২০ টাকা, বিশেষ কায়দায় তৈরি লালচে রঙের একটি টর্চলাইট এবং আনুমানিক ৯ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রস্থের একটি নীল রঙের পলিথিন জব্দ করে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন-রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের অচিনগাছ এলাকার আশরাফুল ইসলাম (৪৬), উমর মজিদ ইউনিয়নের মাঝপাড়া এলাকার হেমন্ত চন্দ্র বর্মন (৩৫), চাকিরপশার ইউনিয়নের কানুয়া এলাকার সাইদি মিয়া (৩৫), চকনাককাটি এলাকার জিয়াউর রহমান (৪২) ও খলিলুর রহমান (৩৮) এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বিশ্বেশ্বর এলাকার গোলাম মোস্তফা ওরফে মজনু (৫৯)।
এছাড়াও পুলিশ এ ঘটনায় সলিম উদ্দিনসহ আরও কয়েকজনকে পলাতক আসামি হিসেবে এজাহারে উল্লেখ করেন।
এ ব্যাপারে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন-গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৫ ও ১৮ ধারায় অভিযোগ মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজারহাট উপজেলাকে মাদক ও জুয়ামুক্ত রাখতে পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।