দাকোপে ভয়াবহ ভাঙনে ৫০ মিটার বেড়ীবাঁধ নদীগর্ভে

এফএনএস (কে, এম, আজগর হোসেন ছাব্বির: দাকোপ, খুলনা) : | প্রকাশ: ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
দাকোপে ভয়াবহ ভাঙনে ৫০ মিটার বেড়ীবাঁধ নদীগর্ভে

দাকোপের বটবুনিয়া এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনে ৫০ মিটার বেড়ীবাঁধ ঢাকী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১৩ টি পরিবার। প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল ও মাছের ঘের। 

রবিবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১ নং পোল্ডারের আওতায় বটবুনিয়া বাজার এলাকায় দেখা দেয় ভয়াবহ ভাঙন। মূহুর্তেই প্রায় ৫০ মিটার ওয়াপদা বেড়ীবাঁধ ঢাকী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের কবলে পড়ে বাস্তুচ্যুত হয় সেখানে বসবাসরত ১৩ টি পরিবার। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় ভাঙনকুলে থাকা যদুবর সরদার, নিরঞ্জন সরদার, কৃষ্ণপদ সরদার, প্রশান্ত সরদার, অজিত সরদার, লকেশ সরদার, গোপাল সরদার, গোবিন্দ সরদার, শেখর সরদার, পরিতোষ সরদার, সূর্যকান্ত সরদার, নীলু সরদার এবং প্রদীপ সরদারের পরিবার ভাঙনে ঘরবাড়ী হারিয়ে অনেকটা খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করছে। ক্ষতিগ্রস্থরা গৃহস্থলির মালামাল সরিয়ে পাশের বাঁধের উপর অবস্থান করছে। প্রত্যক্ষদর্শী দীপংকর বিশ্বাস বলেন সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে আমার চোখের সামনে কয়েক মিনিটের মধ্যে বাঁধে ধস নেমে নদীতে চলে যায়। খবর পেয়ে পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (খুলনা) মধুসুদন পাল, উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুজ্জামান এবং নয়ন আলী ঘটনাস্থলে এসে জিও ব্যাগ ফেলে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্দের উদ্যোগ নেন। যে কারনে তাৎক্ষনিক বৃহৎ এলাকা প্লাবিত হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। তারা জানায় পানির চাপ কমে গেলে জিও টিউব দিয়ে বিকল্প রিং বাঁধ দেওয়ার প্রস্তুতি আছে। এ ছাড়া খবর পেয়ে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বোরহান মিঠু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচীব আঃ মান্নান খান, চালনা পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক শেখ মোজাফ্ফার হোসেনসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট তিলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন গাজী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানায় প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোকে শুকনো খাবার দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে তাদেরকে পূনর্বাসনের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান জানায়, সেখানে কর্মরত ঠিকাদারকে যে কোন মূল্যে এলাকা প্লাবিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকল্প বাঁধ নির্মান করতে সক্ষম হব। উল্লেখ্য দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যক্রর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে ৩১ নং পোল্ডারের আওতায় তিলডাঙ্গা ও পানখালী ইউনিয়ন এবং চালনা পৌরসভা এলাকার হাজার হাজার বিঘা জমির আমন ফসল পানিতে তলিয়ে যাবে। ভেসে যাবে শত শত ঘের পুকুর। ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকায় কৃষি ক্ষেত ও সব্জির আবাদ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে