নদীর তীরজুে বাতাসে দুলছে কাশফুল। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, মেঘনার চরে সাদা চাদর বিছিয়ে আছে। শরতের এ দৃশ্য সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর এলাকায়। গতকাল সোমবার বিকেলে ভাটিবন্দর ও কান্দারগাঁওয়ের মাঝামাঝি মেঘনা নদীর তীরে দেখা যায়, প্রায় ২২০ একর এলাকাজুড়ে ফুটে আছে সাদা সাদা কাশফুল। নদীর জলরাশি, নীল আকাশ আর সাদা কাশফুল মিলে পুরো এলাকা মনোরম পরিবেশ। বিকেল হলেই এখানে ভিড় করছেন অগনিত দর্শনার্থী।
কাশবনের ভেতর কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আপনজনদের নিয়ে ঘুরছেন। শিশুদের ছুটোছুটি, তরুণদের সেলফি আর প্রকৃতিপ্রেমীদের ক্যামেরাবন্দী করার ব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠছে পুরো কাশবন। অনেকেই নদীর পাড়ে বসে শরতের বিকেল উপভোগ করতে দেখা যায়। প্রকৃতি প্রেমি নুসরাত জাহান বলেন, কাশফুলের সৌন্দর্য সামনে থেকে দেখার অনুভূতি আলাদা। এখানে এসে শহরের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে থাকা যায়। নদীর বাতাস আর কাশফুলের দোলা খুব ভালো লাগছে। স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল আলম খোকন বলেন, শরৎ এলেই প্রতিবছর এ বনে কাশফুল ফুটে। ফুল ফোটার পর দুরদুরান্ত
থেকে মানুষ ঘুরতে আসে। এতে জায়গাটি কয়েক মাসের জন্য দর্শনার্থীদের আনাগোনায় জমজমাট হয়ে ওঠে। কাশবনের এই সৌন্দর্য বেশিদিন থাকে না। ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে ঝরে পড়ে কাশফুল, বদলে যায় নদীর পাড়ের চেহারাও। এরই মধ্যে নানা কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাশবন কমে যাচ্ছে। তাই মেঘনার এই বিস্তীর্ণ কাশবনটি রক্ষা করা গেলে প্রতিবছর শরতে প্রকৃতির এই শুভ্র সৌন্দর্য দেখতে পারবেন প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা। কাশফুলে সাজা এই এলাকাটি হয়ে উঠতে পারে সোনারগাঁয়ের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক স্থান।