ঈশ্বরদীতে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপিত

এফএনএস (সেলিম আহমেদ; ঈশ্বরদী, পাবনা) : | প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
ঈশ্বরদীতে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপিত

পাবনার ঈশ্বরদীতে নয়াকৃষি আন্দোলনের আয়োজনে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপিত হয়েছে। গ্রামীন সকল পেশার নারীর অবদানের স্বীকৃতি ও অধিকার সুরক্ষা কর এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের  গোয়ালবাথান গ্রামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গোয়ালবাথান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোকসানা বেগমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোছাঃ সামিদা বেগম প্রবীণ নারী কৃষক। এছাড়া অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুবীর কুমার পাল, উপজেলা প্রকল্প পরিচালক শিহাব উদ্দিন, সাপ্তাহিক ঈশ্বরদীর সম্পাদক সেলিম সরদার। এছাড়া বক্তব্য রাখেন হিসাব রক্ষক উবিনীগ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি শাহ আলম, উপজেলা আঞ্চলিক কার্যালয় সমন্বয়ক উবিনীগ আজমিরা খাতুন, নারী মৎস্যজীবী রোমেলা বেগম,বীজ সংগ্রাহক নীহার বানু, কুমার সম্প্রদায় লক্ষ্ণী রানী পাল ও তৈজসপত্র তৈরি কুটিরশিল্পী শিখা রানী দেব।

বক্তারা বলেন, ঈশ্বরদীতে এই প্রথম বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপিত হচ্ছে। গ্রামের নারীরা সব সময় অবহেলিত। এই নারীদের নিয়ে কেউ কখনো ভাবেন না। নারীরা পুরুষের পাশাপাশি বিভিন্ন কাজে শ্রম বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু বেতনের সময় নারী-পুরুষের বৈষম্য দেখা যায়। একজন পুরুষের দৈনিক হাজিরা বা বেতন ৮০০ টাকা প্রদান করা হলেও নারীদের বেতন দেয়া হয় ৪ থেকে ৫'শ টাকা। কাগজে-কলমে নারীর সমঅধিকার লেখা থাকলেও বাস্তবে সেটা খুবই কম দেখা যায়। বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে এই বিভাজন রয়েই গেছে। ঈশ্বরদীতে নারী কৃষি শ্রমিকেরা পুরুষের চাইতে অনেক বেশি শ্রম বিনিময় করলেও তাদের বেতন পুরুষের চেয়ে অর্ধেক। নারীদেরকে মূল্যায়ন করতে হলে প্রথমে বেতন বৈষম্য দূর করতে হবে। আধুনিক যুগে নারীরাও পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করছে। 

বক্তার আরও বলেন, এদেশ থেকে অনেক দেশীয় বীজ ক্রমান্বয়ে এ হারিয়ে যাচ্ছে। দেশীয় বীজকে নারীরাই সংরক্ষণ করে রেখেছেন। এদেশে বিভিন্ন ফসলের হাইব্রিড বীজে ভরে গেছে। একটু লাভের আশায় কৃষকেরা হাইবিডের দিকেই ঝুঁকছেন। দেশীয় ফসল উৎপাদনে হাইব্রিডের চেয়ে তুলনামূলক কম হয়। নয়াকৃষি আন্দোলন উবিনীগ রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বিরুদ্ধে কাজ করে চলেছেন। তাদের পরামর্শ নিয়ে আমরা জৈব সার দিয়ে ফসল চাষাবাদ করছি। এতে দেশের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে এবং জনগণের শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে