রাজশাহীর তানোরে যোগ্যতা ও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দলীয় বিবেচনায় এক হত্যা মামলার আসামির স্ত্রীকে বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিতর্কিত এই নিয়োগ বাতিল এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীকে ডিলার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তানোর উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি কর্মী-সমর্থক ও মেসার্স মিনা এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটরের পক্ষে মো. আবুল হাশেম এই আবেদনটি করেন। তার বাড়ি উপজেলার যশপুর গ্রামে। পিতার নাম মৃত আজিমুদ্দিন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নে সম্প্রতি মেসার্স অহনা ট্রেডার্সকে নতুন সারডিলার হিসেবে মনোনীত করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর মোসা. উম্মুল মোমেনিন খান ও তার স্বামী তানোর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মোর্তুজা। তার বাড়ি পাঁচন্দর ইউপির মোহাম্মাদপুর গ্রামে। অভিযোগ রয়েছে, এই দম্পতি অতীতে কখনো সার বা এই জাতীয় কোনো ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন না। এমনকি মোহাম্মদপুর বাজারে প্রস্তাবিত ডিলারশিপের জন্য তাদের কোনো নিজস্ব গোডাউন বা প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও নেই।
স্থানীয়দের দাবি, গোলাম মোর্তুজা বিএনপি কর্মী গানিউল হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। কোনো ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও উপজেলা প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তা ও স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের যোগসাজশে নিয়মবহির্ভূতভাবে মেসার্স অহনা ট্রেডার্সকে এই ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনকারী মো. আবুল হাশেম জানান, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মোসা. উম্মুল মোমেনিন খানের শ্বশুর বা গোলাম মোর্তুজার পিতা মৃত মাদার বঙ্ ছিলেন পাঁচন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও স্কুল শিক্ষক। তিনি অন্যের গোডাউন দেখিয়ে সারডিলার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সারের সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে যোগ্য ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ডিলার নিয়োগ করা জরুরি। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নেওয়া এই বিতর্কিত নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করে মেসার্স মিনা এন্টারপ্রাইজকে ডিলার হিসেবে বিবেচনা করার জন্য তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে মেসার্স অহনা ট্রেডার্সের প্রোপাইটর মোসা. উম্মুল মোমেনিন খানের স্বামী তানোর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মোর্তুজা বলেন, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও তার নিজস্ব গোডাউনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। বিধিমতে তার স্ত্রীকে বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। অবশ্যই নিয়মমতে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সারের সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।