অমিতাভের চেয়ে ১ রুপি বেশি পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন নানা, কতটা সত্যি সেই গল্প?

এফএনএস বিনোদন | প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
অমিতাভের চেয়ে ১ রুপি বেশি পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন নানা, কতটা সত্যি সেই গল্প?
ছবি: সংগ্রহীত

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে একই ছবিতে অভিনয় করতে হলে তাঁর চেয়ে এক রুপি বেশি পারিশ্রমিক নিতে হবে, এমন শর্ত দিয়েছিলেন প্রয়াত অভিনেতা নানা পাটেকর। অন্তত এমনই একটি গল্প শুনেছিলেন অভিনেতা কমলেশ সাওয়ান্ত। তবে অমিতাভের চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নেওয়ার এই ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত নন কমলেশ নিজেও। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নানার অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানের কথা বলতে গিয়ে এ স্মৃতির কথা তুলে ধরেন তিনি।

কমলেশ সাওয়ান্ত ‘দৃশ্যম’ চলচ্চিত্রে পরিদর্শক গায়তোন্ডের চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। তাঁর ভাষ্য, নানা পাটেকরের সঙ্গে একটি ছবিতে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই ছবিতে নানার সঙ্গে তাঁর কোনো দৃশ্য ছিল না। এ নিয়ে আক্ষেপও রয়েছে তাঁর।

অমিতাভের সঙ্গে কাজ করার শর্তের গল্পটি বলতে গিয়ে কমলেশ জানান, তিনি শুনেছিলেন, একটি ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছিল এক কোটি রুপি। সেখানে নানা পাটেকর নাকি এক কোটি এক রুপি দাবি করেছিলেন। তাঁর কথিত বক্তব্য ছিল, ‘বচ্চন সাহেবের সঙ্গে কাজ করলে আমি এক রুপি বেশি নেব।’

তবে বিষয়টি যে তাঁর শোনা গল্প, সেটিও স্পষ্ট করেছেন কমলেশ। তিনি বলেন, “আমি এমনটাই শুনেছি, কিন্তু ঘটনাটি কতটা সত্যি, সে বিষয়ে নিশ্চিত নই।” ফলে নানার পারিশ্রমিক নিয়ে আলোচিত এই গল্পের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়।

অমিতাভ বচ্চন ও নানা পাটেকর একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন মেহুল কুমার পরিচালিত ‘কোহরাম’ চলচ্চিত্রে। ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে দুই অভিনেতাকে একসঙ্গে পর্দায় দেখা যায়। তাঁদের অভিনয় ও সংলাপ বলার স্বতন্ত্র ধরন দর্শকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছিল।

নানার অভিনয়জীবনের মূল্যায়ন করতে গিয়ে কমলেশ বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন তাঁর সংলাপ বলার ক্ষমতা। তাঁর মতে, একসময় হিন্দি চলচ্চিত্রে গান ও নাচের প্রাধান্য ছিল বেশি। পরবর্তী সময়ে সংলাপের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। এই পরিবর্তনে নানা পাটেকরের অভিনয়শৈলী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

নানার সংলাপ ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা নিজের চোখে দেখেছেন বলেও জানান কমলেশ। মুম্বাইয়ের গণেশ টকিজ ও জয় হিন্দ টকিজের মতো এক পর্দার প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার কথা স্মরণ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দর্শকেরা নানার সিনেমা একাধিকবার দেখতে যেতেন। তাঁর সংলাপ শোনার জন্য অপেক্ষা করতেন, অনেকের মুখস্থ থাকত পরের সংলাপটিও।

কমলেশের মতে, এক পর্দার প্রেক্ষাগৃহে সাধারণত দর্শকদের উচ্ছ্বাস, চিৎকার ও হাততালির মধ্যে সিনেমা দেখতে হয়। কিন্তু এমন পরিবেশেও মাত্র দুজন অভিনেতা দর্শকদের নীরব করে নিজেদের সংলাপ শোনাতে পারতেন। তাঁরা হলেন অমিতাভ বচ্চন ও নানা পাটেকর।

তিনি বলেন, দর্শকেরা জানতেন কখন চুপ থাকতে হবে, যাতে প্রিয় অভিনেতার সংলাপ স্পষ্টভাবে শোনা যায়। সংলাপের পর কী আসবে, সেটিও তাঁদের অনেকের জানা ছিল। তারপরও সেই মুহূর্তগুলোর জন্য অপেক্ষা করতেন তাঁরা। নানার অভিনয়ের শক্তি বোঝাতে কমলেশ এই স্মৃতিগুলোর কথাই সামনে এনেছেন।

নানার আকস্মিক মৃত্যু নিয়েও শোক প্রকাশ করেছেন কমলেশ। তাঁর ভাষ্য, নানার কোনো অসুস্থতার কথা তিনি জানতেন না। এমন একজন অভিনেতার হঠাৎ চলে যাওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক।

গত ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, ভারতের গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাসভবনে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় নানা পাটেকরকে। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে হৃদ্‌যন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস চালু করার জরুরি চিকিৎসা দিয়েও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর তাঁর অভিনয়, সংলাপ বলার ধরন এবং ব্যক্তিত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অমিতাভের চেয়ে এক রুপি বেশি পারিশ্রমিক চাওয়ার গল্পটিও সেই আলোচনার অংশ। তবে কমলেশের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি নিশ্চিত কোনো ঘটনা নয়, বরং তাঁর শোনা একটি গল্প।

তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে