চাঁদপুরে ইলিশ বিক্রির নামে অনলাইন প্রতারণা, গ্রেফতার ৯

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
চাঁদপুরে ইলিশ বিক্রির নামে অনলাইন প্রতারণা, গ্রেফতার ৯

চাঁদপুরের বিখ্যাত ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আত্মসাৎ করে আসা এক সক্রিয় প্রতারক চক্রের আরও ৩ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ। নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে বিভিন্ন সিমকার্ডসহ ৮টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে চাঁদপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে নিশ্চিত করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন- মো. সুমন ভূঁইয়া, মো. সাইফুল ইসলাম মামুন এবং অনিক অধিকারী। তারা সকলেই নড়াইল জেলার কালিয়া থানাধীন চাচুড়ী ও পেড়লী ইউনিয়নের বাসিন্দা। এ নিয়ে একই ঘটনায় ইতিপূর্বে গ্রেফতার হওয়া ৬ জনসহ মোট ৯ জন আসামিকে আইনের আওতায় আনলো পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চক্রটি ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও আইডি থেকে মাছ ও নানা পণ্যের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে তা এডিট করতো। এরপর ভুয়া ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলে ইলিশ মাছ, ফার্নিচার, কলম, জুতা, বেবি টয়, মোটরবাইক পার্টস বিক্রি এবং অনলাইন জবের ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করতো। সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে লোভনীয় অফার দিয়ে সেই পোস্টগুলো বুস্ট করা হতো এবং ভুয়া পেজে নিজেদের তৈরি করা কৃত্রিম পজিটিভ কমেন্ট যুক্ত করা হতো।

ক্রেতারা যোগাযোগ করলে চক্রটি অন্যদের নামে নিবন্ধিত সিম দিয়ে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো বা ফোনে সরাসরি কথা বলতো। নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য করতে তারা ‘নাহিদ’, ‘জাবেদ’, ‘হাজী আব্দুল কাদের’, ‘রফিকুল’ ইত্যাদি ভুয়া নাম ব্যবহার করতো। শুধু তা-ই নয়, প্রতারণা ঢাকতে তারা ভুয়া ঠিকানা, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স ও জাল ক্যাশ ভাউচার বানিয়ে নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে গ্রাহকদের পাঠাতো। পরবর্তীতে গ্রাহকরা অগ্রিম টাকা পাঠালে কোনো পণ্য না পাঠিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে টাকা আত্মসাৎ করতো। এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ এবং পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০ ধারায় দুটি পৃথক মামলা (মামলা নং-১১১, তারিখ: ২১/০৮/২০২৬ এবং মামলা নং-০৫, তারিখ: ০১/০৯/২০২৬) দায়ের করা হয়।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান-এর দিকনির্দেশনায় এসআই মো. আনছার উল্লাহ, এসআই মো. জিয়াউল হক জিয়া, এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াছ এবং এএসআই মো. জহির উদ্দিনের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়। চাঁদপুর জেলা পুলিশের এলআইসি শাখা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে।

পরবর্তীতে গত ১৪ ও ১৫ অক্টোবর নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে ওই ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। ১৬ অক্টোবর অভিযান শেষে পুলিশ টিম আসামিদের নিয়ে চাঁদপুরে ফিরে আসে এবং ১৭ অক্টোবর বিজ্ঞ আদালতে তাদের সোপর্দ করা হয়। চাঁদপুর জেলা পুলিশ জানায়, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্ব ও পেশাদারিত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অনলাইনে প্রতারণা রোধে জেলা পুলিশের এই কঠোর অভিযান সামনেও অব্যাহত থাকবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে