গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী মার্কেট এলাকায় বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় লালচান মিয়া (৬০), তাঁর স্ত্রী নাছিমা বেগম (৫০) ও মেয়ে তানিশা (১৬) গুরুতর দগ্ধ হন। তাঁদের শরীরের ৮৫ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। তিনজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
দগ্ধদের উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার তাঁদের দগ্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, লালচান মিয়ার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। নাছিমা বেগমের শরীরের ৮৫ শতাংশ এবং তানিশার শরীরের ৮৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধের মাত্রা বেশি হওয়ায় তিনজনের অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোরে রান্নার প্রস্তুতির সময় গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে রান্নাঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনজন দগ্ধ হন। তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন। পরে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহীন আলম জানান, গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। তবে ইউনিট দুটি পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় তিনজন দগ্ধ হয়েছেন বলে এলাকাবাসীর কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, বুধবার ভোরে রান্নার প্রস্তুতির সময় গ্যাস লিকেজের কারণে রান্নাঘরে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হন।
গ্যাস লিকেজের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।