রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো ঘিরে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনায় টেলিভিশন সম্প্রচারের প্রস্তুতিও। স্পেনের লা লিগার এই মহারণ সরাসরি সম্প্রচার করতে বার্সেলোনার মাঠে ৩৫ থেকে ৪০টি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ক্যামেরা বিশেষভাবে অনুসরণ করবে দুই দলের তারকা ফুটবলার লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে।
আগামী রোববার, ২৫ অক্টোবর বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। লিগের পয়েন্ট তালিকায় নয় ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে গত মৌসুমে কোনো শিরোপা জিততে না পারা রিয়াল মাদ্রিদ। তাই পয়েন্টের হিসাবেও ম্যাচটি দুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এবারের ক্লাসিকোর আগে সম্প্রচার ক্যামেরার সংখ্যা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে রিয়ালের সবশেষ ম্যাচের একটি বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ১৮ অক্টোবর সেভিয়াকে ৪-১ গোলে হারায় রিয়াল মাদ্রিদ। সেই ম্যাচে রিয়ালের তুর্কি মিডফিল্ডার আর্দা গুলেরের বিরুদ্ধে সেভিয়ার খেলোয়াড় পেকেকে কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটিতে গুলেরকে লাল কার্ড দেখানোর দাবি জানায় সেভিয়া। ম্যাচের পরও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলটি।
ঘটনাটি টেলিভিশনে পরিষ্কারভাবে ধরা না পড়ায় সম্প্রচারের ক্যামেরা ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনিয়োও ওই ঘটনার স্পষ্ট ছবি বা ভিডিও দেখতে চান বলে জানান। বিতর্কের পর স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সেভিয়ার বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচটি ধারণ করতে মাঠে ২৬টি ক্যামেরা ছিল। এত ক্যামেরা থাকার পরও বিতর্কিত মুহূর্তটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।
লা লিগার ম্যাচ সম্প্রচারে ক্যামেরার সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ম্যাচের শ্রেণিবিন্যাস গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ‘এ’ শ্রেণির ম্যাচে মাঠে অন্তত ২২টি ক্যামেরা ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। তবে মাদ্রিদ ডার্বি কিংবা বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের মতো বড় ম্যাচকে ‘এ প্লাস’ শ্রেণিতে রাখা হয়। এ ধরনের ম্যাচে ক্যামেরার সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৫ থেকে ৪০ পর্যন্ত করা হয়।
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মুন্দো দেপোর্তিভোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের ক্লাসিকোতে ক্যামেরার সংখ্যা ৪০ পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণ সম্প্রচার ক্যামেরার পাশাপাশি ব্যবহার করা হবে উন্নত মানের দীর্ঘ দূরত্বের লেন্স ও সিনেমাটিক ক্যামেরা। সম্প্রচারে থাকবে চার হাজার পিক্সেল মানের ছবির ব্যবস্থাও, যাতে দর্শকেরা আরও স্পষ্টভাবে খেলার দৃশ্য দেখতে পারেন।
শুধু বলের গতিপথ বা মাঠের সামগ্রিক দৃশ্য ধারণ করাই নয়, বিশেষ ক্যামেরায় নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের গতিবিধিও নিবিড়ভাবে অনুসরণ করা হবে। বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল এবং রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে এ ক্ষেত্রে বিশেষ নজরে থাকবেন। দুজনই ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাব্য দাবিদারদের তালিকায় রয়েছেন।
ব্যালন ডি’অর পুরস্কার ঘোষণার ঠিক আগের দিন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই ক্লাসিকো। ফলে দুই তারকার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠে তাঁদের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তও দর্শক ও ফুটবল বিশ্লেষকদের বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রে থাকতে পারে।
মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, পয়েন্ট তালিকার লড়াই এবং তারকাদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সঙ্গে এবার বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠছে সম্প্রচার প্রযুক্তি। রিয়াল-বার্সেলোনার মতো বড় ম্যাচে এত ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনা এমন এক সময় সামনে এল, যখন আগের ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা স্পষ্টভাবে ধারণ করতে না পারা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।