বরিশালের মুলাদীতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের সোনামদ্দিন বন্দর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় নারীসহ অন্তত ৮জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোনামদ্দিন বন্দরের একটি জমি নিয়ে বোয়ালিয়া গ্রামের সিরাজ হাওলাদারের ছেলে আলম হাওলাদার ও সাত্তার হাওলাদারের ছেলে শাজাহান হাওলাদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল শুক্রবার সকালে শাজাহান হাওলাদার ও তাঁর লোকজন বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে ঘর তুলতে গেলে আলম হাওলাদার বোয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে অভিযোগ করেন। ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব হোসেন তখন উভয় পক্ষকে জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ঘর নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের এ নির্দেশ উপেক্ষা করে আজ সকালে শাজাহান হাওলাদার (৭০), তাঁর ছেলে ইকবাল হাওলাদার (৪৮), আবু সুফিয়ান হাওলাদার (৪৫) ও সোহেল হাওলাদার (৪০) এবং আরও আট থেকে ১০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে ঘর তুলতে যান। আলম হাওলাদার ও তাঁর লোকজন বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে শাজাহানের লোকজন পাশের একটি মিল থেকে মরিচের গুঁড়া এনে আলম হাওলাদারের পক্ষের লোকজনের চোখেমুখে ছিটিয়ে দেন। এতে তাঁরা অসহায় হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাঁদের এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। এসময় আলম হাওলাদার (৫৫), তাঁর ভাই সিদ্দিকুর রহমান হাওলাদার (৫১), আবদুর রাজ্জাক হাওলাদার (৪৮) ও সিদ্দিক হাওলাদারের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগমসহ কমপক্ষে ৮জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ৫জনকে ভর্তি করা হয় এবং ৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে আলম হাওলাদার ও সিদ্দিকুর রহমান হাওলাদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের দুজনকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসক। এ ব্যাপারে শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে ইকবাল হাওলাদার হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, 'আমাদের জমিতে ঘর তুলতে গেলে আলম হাওলাদার ও তার লোকজন বাঁধা দেন। এসময় কথার কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে। সেখানে হামলার ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। আহত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’