কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বাদ আসর মোহনগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মো. শাহ আলম, ভারপ্রাপ্ত মোহনগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান; শহিদুল ইসলাম (শহিদ), মিজান, আরিফুল কবির তালুকদার রানা, নাফিউল আজম জুয়েল, মো. ইসমাইল হোসেন বাবুল, শামীম, দুলাল, মো. বদিউজ্জামান বদি, মাজহারুল ও সেলিমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদ জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ঢাকার একটি আবাসিক হোটেলে স্ট্রোকজনিত কারণে মারা যান। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই রফিকুল ইসলাম ৭ মাস পর গত ১০ আগস্ট দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় সিআইডিতে মামলা নথিভুক্ত করেন ।ফলে গত ১ অক্টোবর মামলার বিষয়ে ১০ জনকে ঢাকায় সিআইডিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে মানববন্ধনে জানানো হয়।
সিআইডির নথি অনুযায়ী, ঢাকার মোহাম্মদপুর আমলি আদালতে করা মামলাটি গত ১০ আগস্ট দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় নথিভুক্ত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডি ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক সিকদার মহিদুল আলমের স্বাক্ষর করা নোটিশে বলা হয়েছে, মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। নোটিশ দেরিতে পাওয়ার কারণে আসামিগণ পরবর্তীতে সিআইডিতে হাজির হন।
মানববন্ধনে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারী সরকার বলেন, “আমরা জানি, মরহুম আনোয়ার হোসেন চেয়ারম্যান স্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন। এলাকার সর্বস্তরের মানুষও বিষয়টি জানেন। অথচ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”
এ সময় আরও বক্তব্য দেন শফি আলম, ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন, জুয়েল, বাবুল মেম্বরসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা। বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।