বাল্যবিবাহ রোধে সর্বাত্মক পদক্ষেপ প্রয়োজন

এফএনএস | প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
বাল্যবিবাহ রোধে সর্বাত্মক পদক্ষেপ প্রয়োজন

আমাদের দেশে বৈধ বিবাহের জন্য মেয়েদের ১৮ বছর আর ছেলেদের ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে কোনো ছেলে বা মেয়ের বিয়ে মানে বাল্যবিবাহ। সরকারিভাবে প্রতিনিয়তই বাল্যবিবাহ বন্ধে অভিভাবকদের আহ্বান, শাস্তির ব্যবস্থাসহ সচেতনতার জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বেসরকারিভাবেও বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবু কোনোভাবেই পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না বাল্যবিবাহ বা বাল্যবিয়ে নামের এই ব্যাধি। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। অনেকের কাজ নেই। বেকারত্ব দিন দিন যেভাবে বাড়ছে তাতে দেশের অনেক পরিবার হতাশ ও উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন কারণে অকারণে গরিব ও দরিদ্র পরিবারগুলো সীমাহীন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে কী যে কষ্ট ও দুর্ভোগ পোহাচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করা দুষ্কর। শহরাঞ্চল থেকে গ্রামাঞ্চলের মানুষের অভাব অনেকগুণ বেড়ে গেছে। তারপর কয়েকবার বন্যা-ঝড়, অতিবৃষ্টির কারণে গরিব মানুষ দিশাহারা ও সর্বহারা। পরিবারে চাকরিযোগ্য মেয়ে-ছেলেরা এখন চাকরিচ্যুত। অভাবের সংসারে গরিব পিতা-মাতার অসহনীয় দুর্ভোগ তা চোখে না দেখলে বোঝানো মুশকিল। গরিব বাবার চাকরি বা কাজ নেই মা সেও ক্ষেত-খামারে বা মেয়ে সে গার্মেন্টকসর্মী তারও হাতে আগের মতো কাজ নেই। ছেলে-মেয়েরা এ অবস্থা দেখে শুধু কাঁদছে।  ইদানীং এসব অভাব-অনটনের সংসারে বাল্যবিবাহ বা নাবালিকা বিবাহের সংখ্যা হুহু করে বেড়েই চলছে। আমাদের দেশের গ্রামগুলোতে একটা সময় গ্রাম্য পঞ্চায়েতের মাধ্যমে ধুমধাম করে, রং মাখামাখি করে বিয়ের উৎসব হতো। বিয়ের অনুষ্ঠান মানেই মজার সব আয়োজন। কিন্তু বর্তমান সময়ে এমন আয়োজন খুব একটা চোখে পড়ে না। এখন দেশে প্রতিদিন গড়ে যতগুলো বিয়ে হয় তার অর্ধেকের বেশি হয় অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। কোথাও কোথাও এমন গোপনে বিয়ে হয় যে, পাড়াপড়শিও জানতে পারে না খবরটি। এমনও দেখা যায়, এক বাড়িতে বিয়ে হচ্ছে অথচ পাশের বাড়ির লোকজন বিষয়টি জানেই না। কেন এমন গোপনীয়ভাবে বিয়ে হচ্ছে? কেনইবা এত রাখঢাক? কারণ কী? আসলে কারণ একটাই, একসময় আমাদের দেশে বিয়ের কোনো বয়স ছিল না। এখনো ১১-১২ বছরের মেয়েশিশুর সঙ্গে ১৫-১৬ বছরের ছেলেশিশুর বিয়ের খবর শোনা যায়। কোথাও কোথাও দরিদ্র পরিবারের ১১-১২ বছরের মেয়েশিশুকে এলাকার প্রভাবশালী পরিবারের বয়োবৃদ্ধের কাছে বিয়ে দেওয়ার নজিরও চোখে পড়ে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়। আর এসব বিয়েতে সহায়তা করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজপতি ও স্থানীয় কাজি। জনপ্রতিনিধিরা মেয়ে বা ছেলের বয়স বাড়িয়ে বা নাম বদলে জন্মনিবন্ধন করার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য। পরিবারে অধিক জনসংখ্যা, নিরাপত্তা, অভাব-অনাটন, চাকরিহারা পিতা-মাতা, ভাই-বোন মূলত এখানে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বেশি কাজ করছে। তাই তাদের অভাবের সংসারে স্থানীয় প্রশাসনের আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পরিবারের সচ্ছলতা ছাড়া নাবালিকা ও বাল্যবিবাহ বন্ধ করা কঠিন।